৩০ বছর পানির বোঝা টেনে সংসার চালায় ‘পানি বুয়া’ রেহেনা বেগম
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ ৬:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাসনাপাড়া কলোনির রেহেনা বেগম প্রায় ৩০ বছর ধরে অন্যের বাড়ি ও খাবার হোটেলে পানি সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বয়স ও রোগে শরীর ভেঙে পড়লেও জীবনের লড়াই থামেনি তার। তবে এখন ভাঙা ঘর ও অচলপ্রায় ভ্যান নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
কলাপাড়া পৌর এলাকায় প্রায় তিন দশক আগে কলসিতে পানি টানার কাজ শুরু করেন রেহেনা বেগম। শুরুতে তিনি কোমরে কলস বহন করে পানি পৌঁছে দিতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। বর্তমানে তিনি একটি পুরোনো ভ্যান গাড়িতে করে টিউবওয়েল ও গভীর পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাড়ি, হোটেল ও রেস্তোরায় সরবরাহ করেন।
স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘পানি বুয়া’ নামে পরিচিত। কিন্তু বয়সের ভার ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন আগের মতো কাজ করতে পারছেন না তিনি। ব্যবহৃত ভ্যানটিও নষ্ট হওয়ার পথে, ফলে জীবিকা নির্বাহ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন রেহেনা বেগম। দীর্ঘদিনের কষ্টসাধ্য কাজের কারণে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। প্রতিবেশীরা জানান, তার জীবন এখন টিকে থাকার কঠিন সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেশী মাহিনুর বলেন, “রেহেনা বুয়া দীর্ঘদিন পানি টানার কাজ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার ভ্যানটিও এখন অচল। ঘরের অবস্থাও খুব খারাপ। তার সহায়তা প্রয়োজন।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ রিগার্ড বলেন, “প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ কলসি পানি সংগ্রহ করে তিনি মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন, যা খুবই কষ্টদায়ক। সমাজের বিত্তবানদের তার পাশে দাঁড়ানো উচিত।”
রেহেনা বেগম বলেন, “আমার শরীর ভালো নেই, ঘরও ভাঙা। যদি কেউ আমার ঘর আর ভ্যান ঠিক করে দিত, তাহলে কাজ করে বাঁচতে পারতাম। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টাকা আয় হয়, যা দিয়েই কোনোভাবে চলছি।”
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, রেহেনা বেগমকে বিধবা ভাতার আওতায় আনার পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, রেহেনা দীর্ঘদিন ধরে পানি টানার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি ভূমিহীন হওয়ায় তাকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে।
১১৪ বার পড়া হয়েছে