দুর্গম খ্যায়াচলং রেঞ্জে কাঠ পাচারের অভিযোগ, নজরদারির সংকট
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ ৬:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত খ্যায়াচলং রেঞ্জে জনবল সংকট, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে বন ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ চক্র মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা।
বান্দরবান বন বিভাগের আওতাধীন রোয়াংছড়ি উপজেলার খ্যায়াচলং রেঞ্জের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। অনেক স্থানে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় হেঁটে যেতে হয়, আবার কিছু এলাকায় নৌপথই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। ফলে বন বিভাগের নিয়মিত টহল ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বনাঞ্চলের অনেক এলাকা কার্যত নজরদারির বাইরে থেকে যায়। এ সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করছে বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বন থেকে কাঠ সরিয়ে নিতে একাধিক পথ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রোয়াংছড়ি–বান্দরবান সড়ক অন্যতম। তাদের অভিযোগ, বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ট্রাকে করে বান্দরবান সদরে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ছড়া ও নদীপথ ব্যবহার করেও কাঠ পরিবহন করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ভাষ্য, পাহাড়ি ঢলের সময় কাঠের গুঁড়ি পানিতে ভাসিয়ে নিচের দিকে এনে সুবিধাজনক স্থানে তোলা হয়। ব্যক্তি মালিকানাধীন বা সামাজিক বনায়নের কাঠের বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে সরকারি বনাঞ্চলের কাঠ পরিবহনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বনাঞ্চলের ভেতরে গোপনে কাঁচা রাস্তা তৈরি করে রাতের বেলায় যানবাহন প্রবেশ করানো হয় এবং এসব পথ ব্যবহার করে নিয়মিত কাঠ পাচার করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের অভিযোগ, খ্যায়াচলং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান নিয়মিত কর্মস্থলে অবস্থান করেন না। তাদের দাবি, তিনি অধিকাংশ সময় বান্দরবান সদর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে মাঠপর্যায়ে তদারকি কমে যাওয়ায় বন ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে তারা মনে করেন।
এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কাঠ পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বন বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, খ্যায়াচলং রেঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যানবাহন ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে নিয়মিত টহল এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খ্যায়াচলং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো সত্য নয়। পরে অসুস্থতার কথা জানিয়ে ফোনালাপ শেষ করেন।
১১৪ বার পড়া হয়েছে