সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় তৃতীয় দফায় ভূমিকম্প, মৃত বেড়ে ৯২০ 

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ ৪:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে আবারও ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ এই কম্পনে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও আগের দুই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকাজ চলছে

ভেনেজুয়েলায় বুধবার সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর দুই দিন পর শুক্রবার দেশটির উত্তর উপকূলে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইএমএসসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর ভেনেজুয়েলার ম্যারাকে শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

সর্বশেষ ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আগের দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম এখনো চলছে।

স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়া ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরপর আঘাত হানা ভূমিকম্পে উত্তর ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। রাজধানী কারাকাসের বেশ কয়েকটি এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবারের ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে ধসে পড়া ভবনের নিচে বহু মানুষ আটকা থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যে বলা হয়েছে, শত শত মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকায় উদ্ধার অভিযান সময়ের সঙ্গে আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১৭২ জনের বেশি মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হবে, যাতে উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই বিভিন্ন উদ্ধার দল গঠন করে জীবিতদের খোঁজ চালাচ্ছেন। অনেকেই ব্যক্তিগত যানবাহনকে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন।

উদ্ধারকাজ ও জরুরি যোগাযোগ সহজ করতে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর প্ল্যাটফর্মটি দেশটিতে সীমিত করা হয়েছিল।

ধ্বংসস্তূপের নিচে ছয় বছর বয়সী ছেলে ও আরও কয়েকজন স্বজন আটকা পড়েছেন—এমন একজন বাসিন্দা, ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস বলেন, স্থানীয় মানুষের উদ্যোগেই অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধসে পড়া কংক্রিটের বড় স্ল্যাব সরাতে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।

১১৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন