যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলার দাবি
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ ৩:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় এ দাবি করা হয়।
বার্তায় আইআরজিসি সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি আবারও সামরিক আগ্রাসন চালায়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক হবে।
এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই হামলার পেছনে তেহরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে হামলা এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই আশাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত তীব্র হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলি-তে হামলার ঘটনাকে ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন।
ওই সমঝোতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো শুরু থেকেই এটিকে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল।
১৩১ বার পড়া হয়েছে