পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্সে ৬ মাসে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ ৪:৩৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স ছয় মাস পর খুলে পাওয়া গেছে ৪৩ বস্তা টাকা। শনিবার সকালে দানবাক্সগুলো খোলার পর টাকা গণনার কাজ শুরু হয়েছে। টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। সন্ধ্যার পর মোট টাকার পরিমাণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় খোলা হয়। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এ সময় পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ ৪৩টি বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়।
সেখানে মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক এবং রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা একযোগে টাকা গণনার কাজ করছেন। গণনার পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিনব্যাপী গণনা শেষে শনিবার সন্ধ্যায় মোট টাকার পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলার সময় ৩ মাস ২৭ দিনে জমা হয়েছিল ৩৫ বস্তা টাকা। সেদিন গণনা শেষে মোট পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। তখনও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রায় আড়াইশ বছর আগে এক আধ্যাত্মিক সাধক পাগলের বেশে নরসুন্দা নদীর ওপর ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন। তাঁর মৃত্যুর পর সমাধির পাশে মসজিদটি গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে এটি ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। সেই থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ মানত ও দানের উদ্দেশ্যে এখানে আসেন।
১১৬ বার পড়া হয়েছে