সর্বশেষ

খেলা

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস বাংলাদেশের

স্পোর্টস রিপোর্টার
স্পোর্টস রিপোর্টার

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৩০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং, তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে চার দিনেই জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশের অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ ২৩ বছরের। ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই সফরের ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরে ইতিহাস বদলে দিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

ডারউইনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। তবে রান তাড়ার শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। জশ হ্যাজেলউডের বলে শূন্য রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম।

দ্বিতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন দুজন। মুমিনুল ৩০ ও সাদমান ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে এসেছিল প্রথম জয়।

বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল ম্যাচের প্রথম দিনেই। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের পেসারদের তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস।

১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এটিই সেরা বোলিং। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনও তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১০টি উইকেটই নেন বাংলাদেশের পেসাররা।

ব্যাটিংয়েও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা তানজিদ হাসান তামিম খেলেন ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। আটটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তাঁর এই ইনিংস ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট শতকও এটি।

তানজিদের সঙ্গে ১০২ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল হক। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ আরও বড় হয়। শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ২২৮ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। হাসান মাহমুদ আবারও জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে দেন। পরে মার্নাস লাবুশেন ৩১ ও স্টিভেন স্মিথ ৪৪ রান করে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। ক্যামেরন গ্রিন অবশ্য এক প্রান্ত ধরে রেখে ১৯২ বলে ১০৪ রানের সেঞ্চুরি করেন।

তবে গ্রিনের লড়াইও অস্ট্রেলিয়াকে বাঁচাতে পারেনি। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে একে একে ফিরে যান প্যাট কামিন্স, অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার ও নাথান লায়ন। ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে শেষ করেন মিরাজ। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট, তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম নেন একটি করে।

ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন পড়ে মাত্র ৫৭ রান। শুরুতে তানজিদকে হারালেও মুমিনুল ও সাদমানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে কোনো অঘটন ঘটেনি। ৯ উইকেটের জয় নিয়ে ডারউইনের আকাশে উড়েছে বাংলাদেশের পতাকা।

এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুধু আরেকটি টেস্ট জয় নয়; অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসানও। ২০০৩ সালের সেই সফরের পর এবার অস্ট্রেলিয়াকেই তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ।

১৩১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
খেলা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন