সর্বশেষ

জাতীয়

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার: এফটিএসহ ৯ খাতে সহযোগিতার অগ্রগতি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ৮:০০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং পরে সীমিত ও সম্প্রসারিত পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, দুই দেশ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমবাজার, শিক্ষা, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাত।

এ লক্ষ্যে ৩৩ দফার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

হালাল শিল্পে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদন, সনদ প্রদান ও গবেষণা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী নিয়োগ এবং বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।

শিক্ষা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ নিয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

প্রতিরক্ষা খাতে সামরিক প্রশিক্ষণ, শান্তিরক্ষা মিশনে সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস দমনে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। জ্বালানি খাতে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সফরকালে মালয়েশিয়ার পাঁচটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পারডুয়া ও এমএমসি পোর্টের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সব মিলিয়ে সংক্ষিপ্ত এই সফরকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য, জনশক্তি রপ্তানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন