দ্রোহ ও প্রেমের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী আজ
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ ১:২৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক, কালজয়ী কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। অকালপ্রয়াত এই মহান কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তাঁর জন্মস্থান মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
সত্তরের দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও তুমুল জনপ্রিয় কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ২০২৪ সালে এই মহান কবিকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়। ক্ষণজন্মা এই কবির প্রয়াণ দিবসে আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাঁর অনুরাগীরা।
কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মোংলার মিঠেখালিতে কবির গ্রামের বাড়িতে দিনভর নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে ‘রুদ্র স্মৃতি সংসদ’। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল এবং দোয়া অনুষ্ঠান। এছাড়া কবির স্মরণে আলোচনা সভা এবং তাঁর লেখা কালজয়ী কবিতা ও গান পরিবেশনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ তাঁর কাব্যযাত্রায় একাধারে ধারণ করেছেন দ্রোহ, প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শিল্পভাষ্য। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’—এমন অমোঘ সত্যের পাশাপাশি তিনি উচ্চারণ করেছিলেন ‘ভুল মানুষের কাছে নতজানু নই’। দেশের প্রতিটি জাতীয় সংকট ও সংগ্রামে তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ অবিনাশী হাতিয়ার হয়ে তরুণের পথ দেখিয়েছে।
মাত্র ৩৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে রুদ্র রচনা করেছেন সাতটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এর মধ্যে ‘উপদ্রুত উপকূল’ এবং ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি পরপর দুই বছর সংস্কৃতি সংসদ থেকে ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর রচিত কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ এবং তাঁর রচিত গল্পগুলো বাংলা সাহিত্যে অনন্য সংযোজন।
কবির রচিত ও সুরারোপিত ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানটি দুই বাংলাতেই তুমুল জনপ্রিয়। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মাঝে মোংলার মিঠেখালিতে বসে রচিত এই গানটির জন্য তিনি ১৯৯৭ সালে মরণোত্তর শ্রেষ্ঠ গীতিকারের সম্মাননা পান। জাতীয় কবিতা পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গঠনেও কবি রুদ্র অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে