মার্কিন-ইরান অন্তর্বর্তী চুক্তি: লাভের পাল্লা ভারী তেহরানের, উদ্বেগে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ২:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চুক্তিটি কার্যকর থাকলে ইরান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে লাভবান হবে। অন্যদিকে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত বুধবার ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চুক্তিতে সই করেন বলে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৪ দফার এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চলবে।
লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সারকিস নাওমের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান নতুন করে সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, চুক্তি কার্যকর থাকলে ইরান একাধিক সুবিধা পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের অবসান, ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা, তেল রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠন তহবিলের সম্ভাব্য প্রবাহ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতাও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের কিছু বিশ্লেষক চুক্তিটিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর যে লক্ষ্য ছিল, এই সমঝোতার মাধ্যমে তা অর্জিত হয়নি।
বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব দেশের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মার্কিন নিরাপত্তা ছাতার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরানের অবস্থান আরও দৃঢ় হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।
তবে সব বিশ্লেষক এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। ইরানবিষয়ক গবেষক অ্যালেন ভাটানকা মনে করেন, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও ব্যর্থ চাপ প্রয়োগের নীতির তুলনায় এই ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত পথ।
এদিকে কিছু পর্যবেক্ষক ইসরায়েলকে এই পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে অনিশ্চিত উপাদান হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, চুক্তি বাস্তবায়নের পথে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক বা সামরিক জটিলতা তৈরি হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে