কবি আল মুজাহিদীর জানাজা আজ, দাফন হবে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ২:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রখ্যাত কবি, গবেষক ও সম্পাদক আল মুজাহিদীর জানাজা আজ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রথম জানাজা শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
প্রখ্যাত কবি আল মুজাহিদীর জানাজা আজ (রোববার) দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে। দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সেক্রেটারি ড. মনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে কবির প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বাদ যোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
কবির ছেলে শাবিব আল মুজাহিদীর বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বুধবার অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাধিকবার তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। রক্তে সংক্রমণ, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় তিনি ভুগছিলেন। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে আবারও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি।
কবির মেয়ে মারিয়ামা জাবীন আল মুজাহিদী জানান, তাঁর বাবা প্রায় দুই বছর ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর হৃদযন্ত্রে দুইবার রিং পরানো হয়েছিল। গত বছর চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গে জটিলতা দেখা দেয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার উন্নতি হলে ২৬ মে তাঁকে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের বাসায় নেওয়া হয়। পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে ৪ জুন উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর কিডনি, হৃদযন্ত্রসহ একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা কমে গেছে। অবস্থার আরও অবনতি হলে গত ১৫ জুন তাঁকে পুনরায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরদিন থেকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
শনিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আল মুজাহিদী ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার নারুচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আবদুল হালিম জামালী ছিলেন নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং মা সাখিনা খান ছিলেন গীতিকার ও সমাজকর্মী।
কবি আল মুজাহিদী একাধারে কবি, গবেষক ও সম্পাদক হিসেবে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। গত শতকের ষাটের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে পরিচিত ছিলেন।
১২৮ বার পড়া হয়েছে