সর্বশেষ

রাজনীতি

বিএনপি সরকারের চার মাস: সুন্দর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা কোথায়?

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ ৮:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের চার মাস পার হলেও সরকারের ঘোষিত একাধিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সংস্কার উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারের ভেতরকার প্রশাসনিক জটিলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে—এই বাধাগুলোর উৎস আসলে কোথায়?

চার মাস আগে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর তিনি বেশ কিছু সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক অঙ্গীকার সামনে আনেন। সাম্প্রতিক এক মতবিনিময়ে তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রতিহিংসার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের জন্য কী করা যায়, সেটিই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সহিংসতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)–এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মব হামলায় উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং জামিন-পরবর্তী নতুন মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগও সামনে আসছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল–এর খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে কেন্দ্র করে পুলিশের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কলকারখানা, বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং খাতে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

সরকার পরিবর্তনের পর কিছু ব্যবসায়িক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও উদ্যোক্তারা বলছেন—শুধু আর্থিক প্রণোদনা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন স্থিতিশীল ও নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ও বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত পুরোনো সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়ায় বিনিয়োগে আস্থা ফিরতে দেরি হচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

দলীয় নেতাদের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো পুরোনো কাঠামোর প্রভাব রয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন নিয়োগ কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন না আসায় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

এ ছাড়া প্রশাসনের ভেতরে “চাটুকার সংস্কৃতি” ও দলীয় পরিচয়ভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের “হানিমুন পিরিয়ড” শেষ হয়ে এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা এখন দ্রুত ফলাফল দেখা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে জনআস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন