গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা: পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ ৮:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনায় এক কিশোরী গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
খুলনায় কিশোরী গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় কুমার সাহা ও পরি রানী সাহা। তারা স্বামী-স্ত্রী এবং একই থানায় কর্মরত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভুক্তভোগী কিশোরী ওই দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করছিল। কিশোরীর মা জানান, মেয়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হলেও তিনি এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তিনি মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক-সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় কিশোরীটি কাজ করত। বিভিন্ন অজুহাতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার দুপুরে নির্যাতনের মাত্রা চরম আকার ধারণ করে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানালা দিয়ে দেখতে পান, গরম কড়াই দিয়ে কিশোরীর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় যন্ত্রণায় মুখ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে শাস্তিমূলকভাবে কান ধরে ওঠবস করানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনা প্রত্যক্ষ করে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে একটি সহায়তা কেন্দ্রে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে