কুলিয়ারচরে জব্দ সরকারি চাল নিয়ে বিতর্ক, দ্বিতীয়বার তদন্ত কমিটি গঠন
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ ৬:০৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার খরকমারা এলাকায় একটি গোডাউন থেকে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল দুই মাসের বেশি সময় ধরে আইনগত নিষ্পত্তি ছাড়াই পড়ে রয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা, জব্দ চাল স্থানীয় এক বিএনপি নেতার জিম্মায় রাখা এবং প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন আমলে রেখে পুনরায় আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার খরকমারা এলাকায় একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ করার পর তা সংরক্ষণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জব্দ করা চালের একটি বড় অংশ স্থানীয় এক বিএনপি নেতার জিম্মায় রাখার পাশাপাশি প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনের পর নতুন করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন খন্দকার। অভিযানে গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ বস্তা বা ১৮ হাজার কেজি চাল স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদের জিম্মায় রাখা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
পরে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আদনান আখতারকে প্রধান করে নতুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
এদিকে গত ২৯ জুলাই রাতে জব্দ করা চাল ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে চালের বস্তাগুলো আবার গোডাউনে ফিরিয়ে রাখা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, চাল জব্দের দুই মাস পার হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জব্দ করা সরকারি চালের নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জব্দ চালের জিম্মাদার ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, গোডাউনে থাকা অন্য মালামাল রোদে শুকানোর জন্য ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। এ সময় মিল মালিক কিছু চালও সরিয়ে নিতে চাইলে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে চালগুলো পুনরায় গোডাউনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযুক্ত চাল মজুতকারী জিল্লুর রহমান দাবি করেন, তিনি কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির চাল কিনেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, চালের বাজারদর কমে যাওয়ায় সেগুলো বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় চাল শুকানোর উদ্দেশ্যেই গোডাউন থেকে বের করা হচ্ছিল।
পুনঃতদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আদনান আখতার বলেন, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুতের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশা করছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছিন খন্দকার বলেন, সরকারি চাল এভাবে গোডাউনে মজুত রাখার কোনো বিধান নেই। তাই বিষয়টিকে প্রাথমিকভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে চালের উৎস ও সংরক্ষণের কারণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
১২৩ বার পড়া হয়েছে