কুষ্টিয়ায় স্পিডবোটের ট্রায়ালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে দেহরক্ষী গুরুতর আহত
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে স্পিডবোটের ট্রায়াল দিতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে শরিফুল ইসলাম রবি নামের এক দেহরক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার গোলাপনগর বাগগাড়ি পাড়া সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া ভেড়ামারার স্থানীয় ‘মনি পার্ক’-এর স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম মনির দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন শরিফুল ইসলাম রবি। সম্প্রতি পার্কের মালিক একটি নতুন স্পিডবোট ক্রয় করেন। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেটি দীর্ঘদিন অচল থাকায় ঢাকা থেকে বিশেষ প্রকৌশলী এনে নতুন ইঞ্জিন স্থাপন করা হয়েছিল। শুক্রবার ভোররাতে নতুন ইঞ্জিনের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য তারা স্পিডবোটটি নিয়ে পদ্মা নদীতে নামেন।
স্পিডবোটটি চলার সময় আকস্মিকভাবে নদীর তীরে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সেটিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে একটি গুলি রবির বাম হাতের পেশি ভেদ করে বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে একই দিন বিকেলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। আহত রবি বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এই সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নৌ পুলিশ নদী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহল বাড়িয়েছে এবং হামলার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে