বাজেট ২০২৬-২৭: করছাড় পাচ্ছে ওষুধ, ইভি ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ ৬:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাজেট ২০২৬-২৭-এ একদিকে যেমন করের আওতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকার সৃজনশীল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের বিকাশে প্রণোদনা দিতে চাইলেও করজাল বিস্তারের জন্য বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী, নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্টধারী, সরকারি ভাতাভোগী ও পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় থাকতে পারে। সরকারের লক্ষ্য করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং রাজস্ব আদায় জোরদার করা।
এছাড়া খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন কর ব্যবস্থার প্রস্তাব এসেছে। পণ্য সরবরাহের সময় খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে দশমিক ২ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১ হাজার টাকার পণ্য ক্রয়ে ২ টাকা কর কেটে সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হলো, চাল, ডাল, তেল, চিনি, আলুসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত থাকা কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতেও বেশ কয়েকটি কর ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। হার্টের রিং, চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স, ডায়ালাইসিস ফিল্টার ও হেমোডায়ালাইসিস টিউবিং সেটের ওপর বিভিন্ন কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে। এর ফলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমতে পারে।
দেশীয় ওষুধশিল্পকে উৎসাহ দিতে ক্যানসারবিরোধী ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালসহ বেশ কিছু ফার্মাসিউটিক্যাল উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এপিআই উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোনার গয়নার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট পদ্ধতি পরিবর্তন করে ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্বর্ণালংকার ক্রেতাদের ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ওপর শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও কর ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার এবং স্টার্টআপ খাতে বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত এসব পদক্ষেপ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। তবে করজাল সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নতুন করদাতাদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
১২৯ বার পড়া হয়েছে