সর্বশেষ

জাতীয়

ডিজিটাল শ্রমের বিস্তারে নতুন প্রজন্ম, কিন্তু স্বীকৃতি ও সুরক্ষায় রয়ে গেছে বড় শূন্যতা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ ৩:১৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মহান মে দিবস বিশ্বজুড়ে শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে পালিত হলেও বাংলাদেশের শ্রমবাজারে এখন এক নতুন বাস্তবতা দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। কারখানা বা প্রথাগত অফিসকেন্দ্রিক কাজের বাইরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজ—ফ্রিল্যান্সিং, রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন—এ যুক্ত হয়েছে লাখো তরুণ। অর্থনীতিতে তাদের অবদান বাড়লেও আইনি ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রশ্নে তারা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

স্বাধীনতা থাকলেও নেই কাজের নিরাপত্তা
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন হাজারো তরুণ। সীতাকুণ্ডের ফ্রিল্যান্সার ইমতিয়াজ হোসেন জানান, কাজের স্বাধীনতা থাকলেও আয়ের কোনো নিশ্চয়তা নেই। অসুস্থতা বা কাজ না থাকলে পুরোপুরি আয় বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকার গ্রাফিক ডিজাইনার রাফি বলেন, “প্রতিদিন ১০–১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, অনেক সময় রাত জেগে ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। কিন্তু আমরা এখনো শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃত নই, কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালাও নেই।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে এই খাতে টিকে থাকা দিন দিন আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।

গিগ ইকোনমির বিস্তার, সুরক্ষার ঘাটতি
উবার, পাঠাও ও ফুড ডেলিভারি সেবাসহ গিগভিত্তিক কাজের পরিসর দ্রুত বাড়ছে। তবে এসব কর্মীদের বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

একজন ডেলিভারি কর্মী জানান, “আমাদের বলা হয় পার্টনার, কিন্তু বাস্তবে সবকিছুই অ্যাপনির্ভর। দুর্ঘটনা বা কাজ কমে গেলে কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না।”

গবেষণা অনুযায়ী, গিগ শ্রমিকদের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্যবীমা, পেনশন বা স্থায়ী আয়ের নিরাপত্তা নেই।

শ্রম আইনের বাইরে ডিজিটাল কর্মীরা
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ মূলত প্রচলিত চাকরির কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় গিগ ও ফ্রিল্যান্স কাজ এতে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল শ্রমিকরা আইনি কাঠামোর বাইরে থেকে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এই খাতে এমন নীতি প্রয়োজন যা শ্রমিকদের সুরক্ষা দেবে, আবার অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণও চাপিয়ে দেবে না।

অর্থনীতিতে বড় অবদান, তবু স্বীকৃতি অনুপস্থিত
বর্তমানে দেশে ৮ লাখের বেশি সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছে, যাদের বড় অংশই তরুণ। এই খাত থেকে বছরে প্রায় ১ থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও ডিজিটাল শ্রমিকদের এখনো আনুষ্ঠানিক শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

মানসিক চাপ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
দীর্ঘ সময় কাজ, অনিয়মিত আয় এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এই খাতে মানসিক চাপও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়া এবং পারফরম্যান্সের চাপ তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিশ্চিত আয়ের কারণে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

নীতিগত উদ্যোগের অপেক্ষা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে গিগ ও ডিজিটাল শ্রমকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে শুরু করলেও বাংলাদেশ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, দ্রুত পরিবর্তনশীল এই শ্রমবাজারে কার্যকর নীতি না এলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের শ্রম সংকট তৈরি হতে পারে।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন