সর্বশেষ

সারাদেশ

নওগাঁর ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ: দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, সম্পদ খতিয়ে দেখছে দুদক

মুরাদুল ইসলাম সনেট, রাজশাহী
মুরাদুল ইসলাম সনেট, রাজশাহী

শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ ৪:৪২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
নওগাঁর ভূমি প্রশাসনে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমির নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগে এক সহকারী ভূমি কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ১৭ মে নওগাঁর মোকাম ১ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি করেন স্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান পিপলস সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর। মামলার প্রধান অভিযুক্ত মেহেদী হাসান সদর উপজেলার হাঁপানিয়া ও বক্তারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কোমাইগাড়ী এলাকায় আবাসন প্রকল্পের জন্য কেনা জমির একটি অংশ জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন বাদী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য গেলে তার কাছে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, নওগাঁর ভূমি খাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ-এনায়েতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মৌদুদুর রহমান কল্লোল, যিনি অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের বড় ভাই। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

পিপলস সিটির পরিচালক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কল্লোল নওগাঁ পৌরসভা-চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় থেকেই তার চারপাশে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে ওঠে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে, কল্লোল ও তার পরিবারের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক বলে জানা গেছে। পাশাপাশি চাকরির শেষ সময়ে আবারও সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অফিসে বদলি হয়ে আসার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে চলমান তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুই ভাই নিজেদের প্রভাবশালী ভূমি পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের নানা অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। কোনো ভুল হয়ে থাকলে নিয়ম অনুযায়ী নামজারি বাতিলের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মৌদুদুর রহমান কল্লোলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে আর সাড়া দেননি।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, আদালতের মামলার কপি এখনো হাতে পৌঁছায়নি। কপি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অর্থের বিনিময়ে বদলি হওয়ার সুযোগ নেই।

১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন