সর্বশেষ

জাতীয়

হামের উপসর্গে ৬৮ দিনে ৪৯৯ শিশুর মৃত্যু, নতুন করে প্রাণ গেল আরও ১১ জনের

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ ৫:১৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগেই মারা গেছে পাঁচ শিশু। এ নিয়ে গত ৬৮ দিনে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ৯ জন হামের উপসর্গে এবং ২ জন সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এখন পর্যন্ত মোট ৪১৪ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ৮৫ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে।

একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৬০ হাজার ৫৪০ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এছাড়া এ সময়ে ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকাদান কর্মসূচির ওপর নির্ভর করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, পৃথক চিকিৎসা ইউনিট চালু এবং পুষ্টিহীন শিশুদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হামের সংক্রমণ বাড়লেও বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয় স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, টিকার সংকট এবং সচেতনতার অভাবে দেশে হামের ঝুঁকি বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ শতাংশ শিশু এখনও টিকার বাইরে রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ হামে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে টিকা উৎপাদনের দাবি জানিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে এবং ঈদের পর আবারও বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হবে। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকার সংকটের কারণে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়, যার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে।

১৯২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন