বোয়ালমারীতে গাছ কাটা ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, তদন্তে প্রশাসন
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ ৪:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বোয়ালমারী উপজেলা-এ খাল খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে খালপাড়ের বনায়নের শতাধিক গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাকে ঘিরে বিএনপির দুটি পক্ষ পৃথকভাবে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মধুমতি নদীর নদেরচাঁদ ঘাট থেকে গুনবহা কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত প্রায় ৬.১ কিলোমিটার খাল খনন করা হচ্ছে। প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে খাল খনন চলাকালে খালপাড়ের অন্তত ৩০০-এর বেশি বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনা নিয়েই স্থানীয় রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকাশ্যে আসে।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনে বিএনপির একাংশ মানববন্ধন করে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়। তারা অভিযোগ করে, উপজেলা বিএনপির এক নেতা ও তার অনুসারীরা প্রকল্প তদারকির আড়ালে গাছগুলো কেটে নিয়েছেন। তারা প্রশাসনকে ৭ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আল্টিমেটামও দেন।
অন্যদিকে শুক্রবার (২২ মে) সকালে সোনালী ব্যাংক মোড়ের দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির অপর পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে একই ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানায়। সেখানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, সরকারি সম্পদ নষ্টের ঘটনায় দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘটনা তদন্তে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। কমিটি সরেজমিনে গিয়ে কতগুলো গাছ কাটা হয়েছে, অনুমতির বাইরে কোনো গাছ কাটা হয়েছে কি না এবং কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে।
উপজেলা বন বিভাগ জানিয়েছে, খাল খননের প্রয়োজনে কিছু গাছ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে, তবে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার সুযোগ নেই। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন বলছে, সরকারি জমির গাছ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া অবৈধ এবং যথাযথ নিলামের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করতে হয়।
এদিকে মধুমতি নদী সংলগ্ন এই খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকায় পানি সংরক্ষণ ও কৃষি উৎপাদনে উপকার মিলবে বলে প্রশাসনের আশা। তবে গাছ কাটার ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্কে পুরো প্রকল্প এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে