সর্বশেষ

সারাদেশ

অব্যাহত বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর ৪০ মহল্লা প্লাবিত, পানিবন্দি ১৫ হাজার পরিবার

লিয়াকত আলী, রংপুর
লিয়াকত আলী, রংপুর

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ ৯:১৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
অবিরাম ভারী বৃষ্টিতে বিভাগীয় নগরী রংপুর-এর অন্তত ৪০টি পাড়া-মহল্লা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় সড়ক, বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) ভোর ৪টা থেকে টানা বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর-এর রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মাত্র ৫ ঘণ্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সকাল ৯টার পর বৃষ্টি কিছুটা কমলেও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের দুর্বলতার কারণে পানি নামতে পারেনি। ফলে নগরীর লালবাগ, ধাপ, নিউ জুম্মাপাড়া, কুকরুল, মাস্টারপাড়া, কামারপাড়া, বাবুখাঁ, গণেশপুর, বালাপাড়া, বিনোদপুর, পাঠানপাড়া, ইসলামপুর, মুন্সিপাড়াসহ অন্তত ৪০টি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচু এলাকার বাসিন্দারা। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাটেও পানি প্রবেশ করায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর মাস্টারপাড়া এলাকায় সড়ক ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে ডুবে রয়েছে। চারতলা মোড় থেকে বাবুখাঁ পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রিকশা, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও ট্রাকগুলোকে পানি ডিঙিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। এমনকি রংপুর আবহাওয়া অফিস চত্বরেও পানি জমে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না। তারা বলেন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফছার আলী বলেন, “জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতেই এমন বৃষ্টি আগে দেখিনি। পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। আরও একদিন বৃষ্টি হলে বাড়িঘর পুরোপুরি তলিয়ে যাবে।”

অন্যদিকে বাবুখাঁ ও গণেশপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, অধিকাংশ ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় দোকানদার মমতাজ বেগম বলেন, “দোকানে পানি ঢুকে অনেক টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।”

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৩০ মিলিমিটার এবং সকাল ৯টা পর্যন্ত আরও ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক মাহফুজুন্নবীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন