কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি রাশিয়া-চীনের
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ ২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের মার্কিন সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া ও চীন। বেইজিং ওয়াশিংটনকে ‘হুমকি ও জবরদস্তির রাজনীতি’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, আর মস্কো একে ‘সহিংসতার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছে।
মার্কিন ফেডারেল আদালত গত বুধবার ১৯৯৬ সালে ফ্লোরিডা প্রণালীতে দুটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজনই ছিলেন মার্কিন নাগরিক। বিমান দুটি পরিচালনা করছিল কিউবান-আমেরিকান ভিন্নমতাবলম্বী সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’।
ঘটনার সময় রাউল কাস্ত্রো ছিলেন কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। ২০১৮ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়েন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন দাবি করছে, বিমান ভূপাতিত করার নির্দেশ তিনি নিজেই দিয়েছিলেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সাবেক বা বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে। তার ভাষায়, এটি কার্যত রাজনৈতিক সহিংসতারই একটি রূপ।
অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক বিবৃতিতে বলেন, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও বিচার বিভাগকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কিউবার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বেইজিং হাভানার পাশে থাকবে।
বর্তমান মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি দেশটির জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও আর্থিক খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এতে কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্য পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের এই মামলাকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আইনগত ভিত্তিহীন” বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে গত জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘটনার পর থেকেই লাতিন আমেরিকায় ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে কিউবার সরকার পতনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইলেও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প প্রশাসন পিছপা হবে না। একই সঙ্গে কিউবার জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসানের আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন করে বৈশ্বিক কূটনৈতিক উত্তেজনাকে উসকে দিতে পারে।
১২৯ বার পড়া হয়েছে