ইউরেনিয়াম ইস্যুতে অনড় ইরান, ‘নতুন অস্ত্র’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ ৩:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রস্তাবের জবাব ইতোমধ্যে দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে সেই জবাব এখনো পর্যালোচনা করছে তেহরান বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার মুখোমুখি বৈঠকে বসেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। তবে সেই বৈঠক থেকে ইতিবাচক কোনো অগ্রগতি আসেনি।
চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলুক। কিন্তু এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যেন বিদেশে পাঠানো না হয়। রয়টার্সকে ইরানি দুটি সূত্র জানিয়েছে, তেহরানের শীর্ষ মহল মনে করছে— ইউরেনিয়াম বাইরে পাঠানো হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।
বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাত্রার কাছাকাছি বলে মনে করা হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে এসব ইউরেনিয়ামের একটি অংশ বিদেশে পাঠাতে রাজি ছিল তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ধারাবাহিক হুমকির পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসে ইরান।
বুধবারও ট্রাম্প নতুন করে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চুক্তির বিষয়ে ইরানের জবাবের জন্য অপেক্ষা করা হলেও প্রয়োজন হলে আবারও হামলা চালানো হবে। তার ভাষায়, “সঠিক জবাব না পেলে খুব দ্রুতই অভিযান শুরু হতে পারে।”
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো জবাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রুশ গণমাধ্যমকে ইরানের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তাদের হাতে এমন অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যা এখনো কোনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে নতুন সংঘাত এড়াতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার লক্ষ্য, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে সমঝোতার পথ তৈরি করা।
১২৩ বার পড়া হয়েছে