সর্বশেষ

সারাদেশ

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে ‘সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি’ ৩০ বাংলাদেশি

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

বৃহস্পতিবার , ২১ মে, ২০২৬ ৬:২৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে বিদেশে ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তিন যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে সেখানকার সেনাবাহিনীর কাছে ‘বিক্রি’ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শুধু এই তিনজন নয়—বাংলাদেশের আরও অন্তত ৩০ জন যুবক একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের পলাশ শেখ, সুতিয়ারকুল গ্রামের রনি ফকির এবং বলাকৈড় গ্রামের সৌরভ মোল্লা। বর্তমানে তারা রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তবর্তী সামরিক ক্যাম্পে রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকার জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি এজেন্সি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে রাশিয়ায় নির্মাণকাজের চাকরির আশ্বাস দেয়। পরে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়। গত ৭ মে গোপালগঞ্জের তিন যুবকসহ মোট ৩০ জনকে একটি ফ্লাইটে রাশিয়ায় পাঠানো হয়।

কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে নিয়ে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং জোর করে এক বছরের সামরিক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে তারা জানতে পারেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী পলাশ শেখ পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চুল কেটে ফেলা হয়েছে, সামরিক পোশাকের মাপ নেওয়া হয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

পলাশের দাদা বালা শেখ বলেন, “ছোটবেলায় মা হারানোর পর পলাশ আমাদের কাছেই বড় হয়েছে। সংসারের হাল ধরতে বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি ওকে যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা শুধু ওকে জীবিত ফিরে চাই।”

রনি ফকিরের স্ত্রী তৃষা বেগম বলেন, “রনি ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করছিল। দালালের মাধ্যমে এই এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এখন সে সীমান্তবর্তী সেনা ক্যাম্পে আছে। ফোনে গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”

অন্যদিকে, সৌরভ মোল্লার পরিবার জানায়, সর্বশেষ ভিডিও কলে তাকে সামরিক পরিবেশে দেখা গেছে।

এ ঘটনায় পলাশ শেখের বাবা জামিল শেখ ঢাকার খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে পুলিশ এখনো মামলাটি গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ পরিবারের। পুলিশ তাদের আগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে বিএমইটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের জন্য তাদের অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং পুলিশ যে কারণ দেখিয়েছে তা অযৌক্তিক।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে জড়িত দালালদের বিরুদ্ধে

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন