সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের পর পুতিনের বেইজিং সফর: বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কি এখন চীন?

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ ৩:০৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বেইজিং সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই ভ্লাদিমির পুতিন এর চীন সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বুধবার সকালে শি জিনপিং-এর সঙ্গে পুতিনের বৈঠককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষণ তুঙ্গে উঠেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের উদ্দেশ্য চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ২৫ বছর আগে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বার্ষিকী উদযাপন।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফরের তাৎপর্য কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাজনীতির দিকনির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।

সম্প্রতি বেইজিং সফর শেষে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে একাধিক বড় চুক্তির কথা উল্লেখ করলেও, তাইওয়ান প্রশ্ন কিংবা ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের মতো জটিল ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

এর মধ্যেই ট্রাম্পের পরপরই পুতিনকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানিয়ে চীন স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বর্তমান বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাদের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। রাশিয়া-চীন সম্পর্কের নতুন মাত্রা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশ অর্থনীতি, জ্বালানি, সামরিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে বড় কোনো নাটকীয় ঘোষণা না এলেও অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া এখন জ্বালানি রপ্তানি, প্রযুক্তি এবং কূটনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে চীনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। চীনের হাতে কি ক্ষমতার ভারসাম্য?

বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমানে পুতিনের চেয়ে এই বৈঠকের প্রয়োজন চীনের তুলনায় রাশিয়ার জন্য বেশি। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে এবং তারা চীনের কাছ থেকে আরও কৌশলগত সহায়তা চাইতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যেমন সম্প্রতি বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছেন, পুতিনও অনেকটা একইভাবে চীনের সমর্থন নিশ্চিত করতে চাইছেন। ফলে অনেকের চোখে বৈশ্বিক ক্ষমতার নতুন চাবিকাঠি এখন বেইজিংয়ের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে চীনের কৌশল চীন নিজেকে সরাসরি কোনো পক্ষের মিত্র হিসেবে তুলে না ধরে বরং এক নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। যদিও বাস্তবে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, তবুও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীন এমন বার্তা দিচ্ছে যে তারা বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার পক্ষে এবং কোনো একক পরাশক্তির আধিপত্যে বিশ্বাসী নয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প ও পুতিন—উভয় পরাশক্তির নেতার ধারাবাহিক বেইজিং সফর প্রমাণ করছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চীনের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্ব রাজনীতির পরবর্তী মোড় কোন দিকে যাবে, তার বড় অংশই এখন নির্ভর করছে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক চালচলনের ওপর।

১১০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন