সর্বশেষ

খেলা

সালমান-রিজওয়ানের প্রতিরোধ ভাঙলেন তাইজুল, জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার
স্পোর্টস রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ২:০৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সালমান আলি আগা ও মোহাম্মাদ রিজওয়ানের জুটিতে ম্যাচ পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে পাকিস্তান, তবে সিলেট টেস্ট জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রয়োজন আর মাত্র ৩ উইকেট। আর বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিততে হলে সফরকারীদের দরকার আরও ১২১ রান।

নতুন বলে তাইজুল ইসলামকে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতে প্রশ্ন উঠলেও শেষ পর্যন্ত তা সঠিক প্রমাণিত হয়। প্রথম বলেই ফুলটসে বাউন্ডারি হজম করলেও একই ওভারেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে সালমান আলি আগাকে বোল্ড করেন তিনি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অধিনায়কের কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হয়।

এরপর পরের ওভারেই আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধে বড় ধাক্কা দেন তাইজুল। শেষ বিকেলের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা। তবে পাকিস্তানের সান্ত্বনা হলো, তারা ম্যাচকে পঞ্চম দিনে নিতে সক্ষম হয়েছে।

৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। দিন শেষে অপরাজিত আছেন মোহাম্মাদ রিজওয়ান। অধিনায়ক শান মাসুদ ও সালমান আলি আগা আউট হন ৭১ রান করে।

বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ৪টি উইকেট শিকার করেন।

দিনজুড়ে উইকেট ছিল ব্যাটিং সহায়ক। এটিই সম্ভবত এই টেস্টের সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং উইকেট ছিল। বাংলাদেশের বোলিংও এদিন পুরোপুরি গোছানো ছিল না। পাকিস্তান সুযোগ কাজে লাগিয়ে লড়াই করে দিন পার করে।

সিলেটের আকাশে ছিল সাদা মেঘে ঢাকা ঝলমলে রোদ। সকাল থেকেই ছিল উজ্জ্বল আবহাওয়া। তাসকিন আহমেদের ধারহীন বোলিংয়ের কারণে দ্রুত রান তোলে পাকিস্তান। তবে অপর প্রান্তে শরিফুল ইসলাম ছিলেন নিয়ন্ত্রিত।

তাসকিনের বদলে নাহিদ রানা আক্রমণে আসার পর রানের গতি কিছুটা কমে আসে। তিনিই প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন। তার শর্ট পিচ ডেলিভারিতে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ ক্যাচে আউট হন আব্দুল্লাহ ফাজাল।

এরপর বল হাতেও সাফল্য এনে দেন মিরাজ। তার স্কিড করা আর্ম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান আজান আওয়াইস (২১)।

ক্রিজে এসে প্রথম বলেই নাহিদ রানার ১৪৭.৭ কিমি গতির ডেলিভারিতে চার মারেন বাবর আজম। এরপর শান মাসুদের সঙ্গে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। তাদের জুটিতে ৫০ রান আসে মাত্র ৫১ বলে। বাংলাদেশের বোলাররা তখন রান আটকাতে পারছিল না।

প্রথম সেশনে পাকিস্তান তোলে ১০১ রান।

লাঞ্চের পর প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন বাবর। এরপর সহজেই এগিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। তবে তাইজুল ইসলামের এক সাধারণ ডেলিভারিতে ভাঙে ৯২ রানের জুটি। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ৫২ বলে ৪৭ রান করে আউট হন বাবর। উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন দাস।

এরপর দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারায় পাকিস্তান। নাহিদ রানার ফুল লেংথ ডেলিভারিতে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন সাউদ শাকিল (৬)। দারুণ খেলতে থাকা শান মাসুদ আউট হন ৭১ রানে, তাইজুলের বলে শর্ট লেগে চমৎকার রিফ্লেক্স ক্যাচ নেন মাহমুদুল হাসান জয়।

এরপর মনে হচ্ছিল ম্যাচ দ্রুতই শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সালমান আলি আগা ও রিজওয়ান দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের বোলাররা ধারাবাহিকতা হারালে বড় জুটি গড়ে ওঠে।

রিজওয়ান ৮৬ বলে এবং সালমান ৭৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। একপর্যায়ে বাংলাদেশ নতুন বলের অপেক্ষায় সময় কাটাতে থাকে। এসময় রিজওয়ান ও সালমান নানা কৌশলে সময় ক্ষেপণও করেন, যা নিয়ে লিটনের সঙ্গে রিজওয়ানের কথাকাটাকাটিও হয়।

শেষ পর্যন্ত নতুন বলেই ভাঙে ১৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তাইজুলের একটি বল টার্ন করে বাইরে যায়, পরের বলটি ব্যাট-প্যাড ফাঁক গলে স্টাম্প ভেঙে দেয় সালমান আলি আগার।

নিজের পরের ওভারেই তাইজুল ফেরান হাসান আলিকেও। এরপর সাজিদ আলিকে নিয়ে দিন পার করে দেন রিজওয়ান।

তবে শেষ বিকেলের এই দুটি উইকেটই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর সুযোগ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৭৮
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৩২
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৯০
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৮৬ ওভারে ৩১৬/৭ (লক্ষ্য ৪৩৭, আগের দিন ০/০)

ব্যাটিং: আজান ২১, ফাজাল ৬, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭, শাকিল ৬, সালমান ৭১, রিজওয়ান অপরাজিত, সাজিদ অপরাজিত
বোলিং: তাসকিন ৯-১-৪১-০, শরিফুল ১১-৩-২৯-০, নাহিদ ১৪-২-৫৮-২, মিরাজ ২০-১-৬২-১, তাইজুল ৩১-৩-১১৩-৪, মুমিনুল ১-০-৩-০।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
খেলা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন