সর্বশেষ

সারাদেশ

ঢাকা বিভাগ ও টাঙ্গাইলে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ

কাজী রিপন, টাঙ্গাইল
কাজী রিপন, টাঙ্গাইল

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ১:৩৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগের প্রতি ৮ জন বাসিন্দার মধ্যে ১ জন ব্র্যাকের কোনো না কোনো সেবার আওতায় এসেছেন।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বিভাগটিতে ব্র্যাকের ২৬ হাজার ৯০০ জন কর্মী এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, যাদের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ১,০৫১টি কার্যালয় এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ৮৬টি কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ঢাকা বিভাগে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। একই অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলারও বার্ষিক প্রতিবেদন আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) টাঙ্গাইল জেলা সদরের উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন ব্র্যাকের চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) সাব্বির আহমেদ।

তিনি বলেন, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বাস করতেন, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মধ্যেই সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব। ব্র্যাক সেই পরিবেশ তৈরিতেই কাজ করছে। তিনি মৃত্যুর পূর্বে ব্র্যাকের জন্য একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে গিয়েছিলেন—২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানো। সেই স্বপ্ন ও চেতনাকে ধারণ করেই ব্র্যাক এগিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। তিনি বলেন, ব্র্যাক বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। তবে দরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষের জন্য ব্র্যাককে আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. শহিদুল ইসলাম বলেন, গত ৫০ বছরে ব্র্যাক পুরো বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের (Inclusive Development) আওতায় নিয়ে এসেছে। এমনকি দেশের বাইরেও তারা এই উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ব্র্যাককে অনুরোধ জানান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আদিবুল ইসলাম (পিপিএম–সেবা), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিঞা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির প্রধান আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগে ১৭ হাজার ৯০৯টি অতিদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭২৫টি পরিবার সফলভাবে অতিদারিদ্র্য থেকে উত্তরণ করেছে। জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ৪ হাজার ১১৬ জন।

ঢাকা বিভাগের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ব্র্যাকের আর্থিক সেবার আওতায় এসেছেন। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশই নারী।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সেবা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় এসেছে ৩ লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। এ বিভাগের মধ্যে ১ লাখের বেশি গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং ২৫ হাজার ৪৭৫টি নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে ব্র্যাক। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় এসেছেন ৯০ হাজার ২৮৮ জন।

একইভাবে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহনশীলতা এবং নারী-পুরুষের সমঅধিকারসহ বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যও তুলে ধরা হয়।

টাঙ্গাইল জেলার বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন টাঙ্গাইলবাসী ব্র্যাকের কোনো না কোনো সহায়তার আওতায় এসেছে। শুধু টাঙ্গাইল জেলায় ৫১১টি সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির অফিস এবং ৩টি সামাজিক উদ্যোগের অফিসে ১ হাজার ২৫৫ জন ব্র্যাক কর্মী কর্মরত রয়েছেন।

এছাড়াও জেলায় ৩ লাখ মানুষ ব্র্যাকের আর্থিক সেবা ও সচেতনতামূলক সহায়তা পেয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সেবা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন ১৮ হাজার ৭৬৮ জন। পাশাপাশি ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতা ও মনোসামাজিক সহায়তা পেয়েছেন।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন