সর্বশেষ

সারাদেশ

নওগাঁয় ঈদ সামনে রেখে দ্বিগুণ গবাদিপশু প্রস্তুত, খামারিদের শঙ্কা

মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ
মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ১:৪৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁর প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন।

ঈদ আর মাত্র ৮–৯ দিন বাকি থাকায় জেলার পশুর হাটগুলো এখন বেশ জমে উঠেছে। একইসঙ্গে খামারগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে দ্বিমুখী চাপে রয়েছেন খামারিরা। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সীমান্ত পথে ভারত থেকে অবৈধ গরু প্রবেশের আশঙ্কাও তাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁর ১১টি উপজেলায় প্রায় ৩৮ হাজার ৯০৯ জন খামারি বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালন করছেন। জেলার স্থানীয় চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার পশুর। ফলে উদ্বৃত্ত প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার ৬৭৮টি গবাদিপশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে জেলার বড় পশুর হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে নওগাঁ সদর উপজেলার রাধাকান্ত হাট, মান্দা উপজেলার চৌবাড়ীয়া হাট ও সতিহাট, আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ হাট, মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরী হাট ও মাতাজী হাট, পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর হাট এবং বদলগাছীর কোলা হাট। এসব হাটে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার পশু বিক্রির জন্য উঠছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানিকে কেন্দ্র করে দেশি ও শাহীওয়ালসহ বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত করছেন খামারিরা। গরুকে নিয়মিত গোসল করানো, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দেওয়া, ঘর পরিষ্কার রাখা এবং যত্নসহকারে লালন-পালনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মালিক ও কর্মচারীরা। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে পশু মোটাতাজাকরণে বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

খামারিদের অভিযোগ, গত তিন মাসে দানাদার পশুখাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি এবং জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে পশু পরিবহনের ব্যয়ও বাড়বে। কিন্তু সে অনুযায়ী পশুর দাম না বাড়ায় সারা বছরের খরচ মেটানো এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল এলাকার খামারি একরামুল হাসান বলেন, তার খামারে ১০৬টি গরু রয়েছে, যার অধিকাংশই শাহীওয়াল জাতের। প্রতিটি গরুর দাম দেড় লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ৩১টি ছাগলও রয়েছে। তিনি জানান, দিনে তিন বেলা আটা, ভুষি, খৈল, খড় ও ঘাস খাওয়াতে হয়। তবে বাজারে দানাদার খাদ্যের দাম বাড়ায় ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

আরেক খামারি উজ্জ্বল হোসেন বলেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে সাধারণত তিনি প্রতি বছর ৫–৭টি গরু পালন করেন, তবে এবার ৫টি গরু পালন করছেন। তার ভাষায়, গত তিন মাসে খাদ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আগে ৫০ কেজি খুদের বস্তা ১,৮০০ টাকা ছিল, এখন ২,০০০ টাকা হয়েছে। ১,৭০০ টাকার ব্যান্ড এখন ২,২০০ টাকা এবং ৮০০ টাকার ফিড এখন ১,৩০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

আরজি নওগাঁ এলাকার খামারি সাইফুর রহমান জানান, এবার গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গবাদিপশু পালনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি প্রতি বছর কোরবানি উপলক্ষে ২০ থেকে ৩০টি গরু প্রস্তুত করেন এবং এসব দেখাশোনার জন্য শ্রমিকও নিয়োজিত রাখতে হয়। সব মিলিয়ে এবছর খরচ অনেক বেশি বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, নওগাঁ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ভারতীয় গরু অবৈধভাবে প্রবেশের একটি আশঙ্কা সবসময় থাকে। এমন পরিস্থিতিতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন তিনি।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ট্রেনিং অফিসার ডা. গৌরাংগ কুমার তালুকদার বলেন, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু লালন-পালনে খামারিদের খরচ কমাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে পশু সুস্থ থাকার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে খামারিরা লাভবান হবেন এবং ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়বে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নওগাঁ ১৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শফিক মোবাইল ফোনে জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সীমান্ত পেরিয়ে গরুসহ কোনো ধরনের পণ্য যেন দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চলছে। নওগাঁ জেলার প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ৩৬টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) থেকে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে গরু প্রবেশের কোনো সম্ভাবনা নেই।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন