সর্বশেষ

সারাদেশ

১৫ বছরের দুর্নীতির বোঝা টেনে ধুঁকছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ১:০৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দীর্ঘ ১৫ বছরের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

নানা সংকটের মধ্যে পরিচালিত এ বৃহৎ চিকিৎসালয় থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। প্রকল্পের শুরু থেকেই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেরিয়েও হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।

বাজেট ও জনবল সংকটের মধ্যেই এবং যন্ত্রপাতি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর ছাড়াই ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হয়। তবে চালু হওয়ার পরও জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। কারণ, প্রায় দুই হাজার জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে এখনো অর্ধেক কার্যক্রমও চালু হয়নি। ২৩টি বিভাগের মধ্যে মাত্র ছয়টি বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়েছে। অথচ বর্তমানে এসব বিভাগে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ৬০০ রোগী। ফলে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের।

একই অবস্থা বহির্বিভাগেও। প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৬০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। সীমিত জনবল নিয়ে এত বিপুল রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিনেও হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ার পেছনে জনবল সংকটকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জনবল ছাড়া হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনাকাটা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, কিছু যন্ত্রপাতির দাম বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দেখানো হয়েছে। আবার কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার উপযোগী নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কোনো ব্র্যান্ডের লোগোবিহীন কম্পিউটারও সরবরাহ করা হয়েছে।

এসব কারণে হাসপাতাল চালু হলেও এখনো সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আলট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে ও ইসিজি পরীক্ষা চালু রয়েছে। তবে সিটিস্ক্যান ও এমআরআইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাসেবা এখনো চালু হয়নি।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে নানা সমস্যা ও সংকট রয়েছে। তবে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, বাজেট ও জনবল সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের যন্ত্রপাতিও কয়েক দিনের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরীক্ষাসেবা চালু করা সম্ভব হবে।

১৩১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন