মুন্সীগঞ্জে কোরবানীকৃত পশুর চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ১২:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানীকৃত পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার, মুন্সীগঞ্জ-এর প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরান হোসেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, মুন্সীগঞ্জ জেলায় এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৭১১টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৪৪ হাজার ২৬২টি এবং ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ২৩ হাজার ৪৪৯টি।
চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে গত বছরের মতো এবারও লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করবে—এমন মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোকে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জেলায় বর্তমানে ২০৫টি নিবন্ধিত এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চামড়া সংরক্ষণের জন্য আনুমানিক ১৫৪ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়াও চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম তদারকি, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম ও কন্ট্রোল রুম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সঠিক নিয়মে পশু জবাই, দক্ষতার সঙ্গে চামড়া ছাড়ানো, পশু জবাইয়ে নিষ্ঠুরতা পরিহার এবং ‘নাইফ-কাট’ বিষয়ে কসাইদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রয়োজনে উন্মুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সবশেষে, ঈদকে সামনে রেখে জেলায় সুলভ মূল্যে লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
১২৩ বার পড়া হয়েছে