বুয়েটে প্রচলিত ধারা উপেক্ষা করে ড. একরামুলকে ভিসি নিয়োগে বিতর্ক
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর উপাচার্য (ভিসি) পদে পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. একরামুল হককে নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নানা বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সিনিয়রিটির প্রচলিত ধারা উপেক্ষা করে তাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, বুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে ভিসি নিয়োগের রীতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে এবং সাধারণত শীর্ষ তিনজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের মধ্য থেকেই এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এবার ১৯ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ডিঙিয়ে ড. একরামুল হককে ভিসি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় একটি মহল রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “দেশে জনগণের বিপুল সমর্থনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অবিসংবাদিত নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে বিতর্কিত করতেই একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের পায়তারা করছে।”
ড. একরামুল হকের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি কখনো বিভাগীয় প্রধান, অনুষদের ডিন কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেননি। এছাড়া বুয়েট শিক্ষক সমিতিরও কোনো পদে তিনি ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতার অভিযোগও আনা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ১৭ বছর তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং কখনো কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হননি। যেখানে বুয়েটের অনেক শিক্ষক তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন, এমনকি চাকরিচ্যুতও হয়েছেন, সেখানে ড. একরামুল হককে “ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পেলেও তিনি সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতেন না। বরং অন্যদের দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করিয়ে শুধু স্বাক্ষর করতেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আশঙ্কা, বুয়েটের মতো দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সক্ষমতা ড. একরামুল হকের নেই। তারা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়কে গভীর সংকটের মুখে ফেলতে পারে।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে