নির্বাচনী ইশতেহার ব্রিফিংয়ে অনুপস্থিত ডিসি, ঝিনাইদহে ব্যাপক সমালোচনা
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ৮:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহে সদ্য যোগদান করা জেলা প্রশাসক (ডিসি) নোমান হোসেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কের মুখে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবার সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ব্রিফিংকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন। তার পরিবর্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রিফিং চলাকালীন সময়েই জেলা প্রশাসক নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। তবে একই দিন দুপুরে শহরের ফুডসাফারি মিলনায়তনে “রূপান্তর” নামের একটি এনজিওর অনুষ্ঠানে তাকে উপস্থিত দেখা যায়।
এ ঘটনায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির চেয়ে একটি এনজিওর অনুষ্ঠান কি বেশি অগ্রাধিকার পেল? একজন জেলা প্রশাসকের কাছে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কি দ্বিতীয় সারিতে চলে গেল?
স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের দাবি, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত এই ব্রিফিং ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতি শুধু দৃষ্টিকটু নয়, বরং তার দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে একই সময়ে তিনি অন্য একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের অন্যান্য জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই ধরনের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেসব অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকরা। অথচ ঝিনাইদহে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। সেখানে জেলা প্রশাসক উপস্থিত না থাকায় সংক্ষিপ্ত আকারে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে পরে এনজিওর ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলার বিভিন্ন মহলের মতে, সদ্য যোগদান করেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সরকারি কর্মসূচিকে উপেক্ষা করে এনজিও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, “ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক উপস্থিত থাকতে হবে—এমন কোনো নির্দেশনা নেই। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেই যথেষ্ট। সে কারণেই আমি সেখানে যাইনি।”
১২২ বার পড়া হয়েছে