স্মৃতিগন্ধী জলপাইগুড়ি থেকে কলকাতার রাজপথ: সমরেশ মজুমদার ও মহাকালের শব্দসাঁকো
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে সময় তার অমোঘ নিয়মে এগিয়ে চলেছে। দুপুরের তপ্ত রোদ ম্লান হয়ে যখন গোধূলির ছায়া দীর্ঘতর হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই কোনো এক নিঃসঙ্গ লাইব্রেরির কোণে কিংবা কোনো এক তরুণের ডিজিটাল রিডারের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একটি নাম -সমরেশ মজুমদার।
আজ তাঁর প্রয়াণের তিন বছর অতিক্রান্ত হলো। তিন বছর সময়টা ইতিহাসের পাতায় অতি সামান্য হলেও, এক অস্থির সময়ের পাঠকদের কাছে এ যেন এক দীর্ঘ বিরহকাল। অথচ আশ্চর্য এই যে, তিন বছর পরেও কি তাঁর লেখনী পুরনো হয়েছে? বরং ২০২৬-এর এই অতি-যান্ত্রিক যুগে দাঁড়িয়ে সমরেশ মজুমদারের মাটির কাছাকাছি থাকা চরিত্রগুলো যেন আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর সাহিত্য কেবল নিছক গল্পবলা ছিল না; তা ছিল উত্তরবঙ্গের অরণ্য-পাহাড়ের বুক চিরে উঠে আসা এক মহাকাব্যিক হাহাকার, এক অনন্য উত্তরণ।
সমরেশ মজুমদারের সাহিত্যের উৎস খুঁজতে গেলে আমাদের মানসচক্ষে ভেসে ওঠে ডুয়ার্সের সেই কুয়াশাঘেরা চা-বাগান। জলপাইগুড়ি আর গয়েরকাটার সেই আদিম সৌন্দর্য যেখানে প্রকৃতি কেবল মানুষের সহাবস্থান নয়, বরং মানুষের ভাগ্যবিধাতা। তাঁর কলমে তিস্তা আর তোর্সার ঢেউ কেবল জলপ্রবাহ ছিল না, ছিল জীবনের বহমানতা। 'দৌড়' থেকে শুরু করে তাঁর অগণিত উপন্যাসে আমরা দেখেছি, কীভাবে উত্তরবঙ্গের সেই মেঠো গন্ধ কলকাতার পিচঢালা রাজপথের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। তাঁর বর্ণনায় অরণ্য কোনো জড় বস্তু নয়; অরণ্য সেখানে কথা বলে, অরণ্য সেখানে আদিম সত্যকে আড়াল করে রাখে। এই যে নির্দিষ্ট এক পরিবেশে মানুষের নিক্ষিপ্ত হওয়া, অনেকটা যাকে দার্শনিকরা 'ফ্যাক্টিসিটি' বলেন, সমরেশ যেন তা অতি সহজে সাধারণ মানুষের ভাষায় বুনে দিয়েছেন। তাঁর সাহিত্যে আঞ্চলিকতা কখনো সংকীর্ণ হয়নি, বরং সেই চা-বাগানের কুলিদের জীবনের না-বলা কথাগুলো হয়ে উঠেছে বিশ্বজনীন মানবিকতার দলিল।
বাঙালির আবেগের এক পরম আশ্রয়স্থল হলো তাঁর কালজয়ী 'অনিমেষ-মাধবীলতা' চতুষ্টয়। 'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা', 'কালপুরুষ' এবং শেষে 'মৌষলকাল'-এই চারটি উপন্যাস মিলে যে আখ্যান তৈরি হয়েছে, তা যেন গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের এক তপ্ত রক্তক্ষরণের ইতিহাস। অনিমেষ চরিত্রটি কেবল একজন যুবক নয়, সে ছিল এক আগ্নেয় সময়ের প্রতিনিধি। যখন সারা বাংলা এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নেশায় চঞ্চল, যখন মেদিনীপুরের কাদা আর কলকাতার অলিগলি একাকার হয়ে যাচ্ছে আদর্শের লড়াইয়ে, সমরেশ মজুমদার তখন কলম ধরলেন সেই উত্তাল সময়ের সাক্ষী হিসেবে। জঁ-পল সার্ত্রের সামাজিক দায়বদ্ধতার দর্শনকে তিনি যেন অনিমেষের মধ্য দিয়ে মূর্ত করে তুলেছিলেন। কিন্তু সমরেশ কেবল বিপ্লবের জয়গান গাননি, তিনি দেখিয়েছেন সেই বিপ্লবের করুণ পরিণতি এবং স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা। "মাধবীলতা, আমাদের সময়টা আমাদের থাকল না"-এই একটি বাক্য কেবল একটি ব্যক্তিগত হাহাকার নয়, এটি যেন একটি আস্ত প্রজন্মের দীর্ঘশ্বাস। আলবেয়ার কামুর সেই 'বিদ্রোহী সত্তা' যখন ব্যর্থতার অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তখন যে একাকীত্ব গ্রাস করে, অনিমেষ ছিল সেই অস্তিত্ববাদী সংকটের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
কিন্তু এই রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝখানে যে চরিত্রটি দীপশিখার মতো অম্লান হয়ে রইল, সে হলো মাধবীলতা। বাংলা সাহিত্যে নারীর এমন দৃঢ়চেতা অথচ কোমল রূপ আর খুব বেশি দেখা যায় না। মাধবীলতা কেবল এক প্রেমিকা নয়, সে একাধারে এক নির্ভরতার আকাশ। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যখন নারীকে কেবল অলঙ্কার হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত ছিল, তখন মাধবীলতা এক অনন্য স্বনির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মাধবীলতা জানত কীভাবে আগলে রাখতে হয়, কীভাবে ভাঙা ঘরেও পূর্ণতার স্বপ্ন দেখতে হয়। অনিমেষ যখন পঙ্গু হয়ে ফিরে এল, তখন মাধবীলতা নিজের সত্তাকে বিসর্জন না দিয়েও তার সহযাত্রী হয়েছে। ২০২৬ সালের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সম্পর্কের যুগে দাঁড়িয়ে মাধবীলতার সেই অবিচল প্রেম ও আত্মত্যাগ যেন এক স্থির ধ্রুবতারা। মাধবীলতা কারো ছায়ায় বড় হয়নি, সে নিজেই নিজের আলোয় ভাস্বর ছিল।
সমরেশ মজুমদারের লেখনীতে নারী চরিত্রের এই যে জয়যাত্রা, তার চূড়ান্ত শিখর হলো 'সাতকাহন'-এর দীপাবলী। গ্রামীণ সমাজের সংকীর্ণতা, বৈধব্যের গ্লানি আর চারপাশের প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে দীপাবলীর জেলাশাসক হয়ে ওঠার গল্প কেবল একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়। এটি ছিল যুগ যুগ ধরে চলে আসা পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর মূলে এক সজোর আঘাত। উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে দীপাবলী এমন এক মানবী, যে নিজের কর্তৃত্ব বা 'এজেন্সি' প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল। সমরেশ মজুমদার এখানে কেবল লিঙ্গসাম্যের শ্লোগান দেননি, বরং নিঃশব্দে দেখিয়েছেন যে শিক্ষা আর মনের জোর থাকলে কীভাবে অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা করা যায়। আজ যখন আমরা ডিজিটাল ডিভাইড আর সামাজিক বৈষম্য নিয়ে কথা বলি, তখন দীপাবলীর সেই লড়াই নতুন করে আমাদের অনুপ্রাণিত করে। সে যেন আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে যে, হার মেনে নেওয়াটাই শেষ কথা নয়, লড়ে যাওয়াটাই আসল সার্থকতা।
সমরেশ মজুমদারের গদ্যের নিজস্ব এক সম্মোহনী শক্তি ছিল। তাঁর ভাষা খুব বেশি অলঙ্কৃত নয়, বরং মেদহীন এবং তীব্র গতিময়। অনেক সমালোচক তাঁর লেখাকে 'সিনেমেটিক' বলে আখ্যা দিয়েছেন। যখন তিনি জলপাইগুড়ির কোনো নির্জন খাসমহল কিংবা কলকাতার উত্তাল মিছিলের বর্ণনা দেন, তখন পাঠকের মনে হয় তিনি যেন চাক্ষুষ সেই দৃশ্যপট প্রত্যক্ষ করছেন। দৃশ্যকল্প তৈরির এই ক্ষমতা তাঁকে সমকালীন অন্যান্য লেখকদের থেকে এক স্বতন্ত্র উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মিখাইল বাখতিনের সেই 'ডায়ালজিক' তত্ত্বের মতো তাঁর প্রতিটি চরিত্র নিজেদের ভাষায় কথা বলে। লেখক সেখানে কেবল এক মায়াবী সূত্রধর। জীবনের জটিলাবর্ত, মধ্যবিত্তের দোদুল্যমান নৈতিকতা আর সম্পর্কের চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোকে তিনি অতি দরদ দিয়ে এঁকেছেন।
কিশোর মনেও সমরেশ মজুমদার এক অসামান্য আসন দখল করে আছেন তাঁর 'অর্জুন' চরিত্রের মাধ্যমে। গতানুগতিক রহস্য গল্পের বাইরে গিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন এক 'সত্যসন্ধানী'। জলপাইগুড়ির প্রেক্ষাপটে অর্জুনের রোমাঞ্চকর অভিযানগুলো কেবল রোমাঞ্চ নয়, বরং এক অজানা পাহাড়ের হাতছানি। অর্জুন কোনো অতিপ্রাকৃত নায়ক নয়, সে রক্তমাংসের এক তরুণ যে সাহস আর বুদ্ধির জোরে সত্যের সন্ধান করে। সমরেশ মজুমদারের এই সৃষ্টি কিশোর মনস্তত্ত্বকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে, শিখিয়েছে বীরত্ব কেবল বড় শহরের অট্টালিকার ভেতর নয়, ডুয়ার্সের ঘন জঙ্গলে বা পাহাড়ি ঝোরার শব্দেও লুকিয়ে থাকতে পারে।
সমরেশ মজুমদারের রাজনীতি চেতনার গভীরে ছিল এক প্রগাঢ় মানবিক দর্শন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের টিকে থাকার লড়াই সব রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে। তাঁর উপন্যাসে আমরা রাজনীতির অবক্ষয় দেখেছি, দেখেছি কীভাবে বিপ্লবীদের মধ্যে সুবিধাবাদ দানা বাঁধে। 'কালপুরুষ' বা 'মৌষলকাল'-এ তিনি যেভাবে সময়ের ক্ষয়াটে চেহারাটা দেখিয়েছেন, তা ছিল এক ধরণের সমাজতাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ। রঁলা বার্থের সেই তত্ত্ব অনুযায়ী লেখক এখানে নিজেকে আড়ালে রেখে সমাজকেই কথা বলতে দিয়েছেন। সমরেশ মজুমদার ছিলেন সময়ের এক নির্মোহ আয়না। তিনি দেখেছেন কীভাবে আদর্শের জায়গা দখল করে নেয় ক্ষমতার লিপ্সা, আর কীভাবে এক প্রজন্মের স্বপ্ন অন্য প্রজন্মের কাছে অবান্তর হয়ে পড়ে।
ভারত এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের ক্ষেত্রে সমরেশ মজুমদারের অবদান এক বিশাল মহীরুহের মতো। দুই বাংলার পাঠকদের কাছেই তিনি ছিলেন সমান আদরণীয়। গঙ্গা আর পদ্মার এপাড়-ওপাড়কে তিনি সাহিত্যের এক অদৃশ্য সুতোয় গেঁথেছিলেন। তাঁর উপন্যাসের চরিত্ররা এক অখণ্ড মানবিক বোধের জয়গান গেয়েছে। তিনি যেন এক নিরবচ্ছিন্ন সংলাপের সেতু, যা দুই বাংলার মনস্তত্ত্বকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছে।
সমরেশ মজুমদার কি কেবল একজন লেখক ছিলেন? নাকি তিনি ছিলেন এক কালান্তরের শব্দসারথি? ডুয়ার্সের চা-বাগানের কুয়াশা থেকে কলকাতার ট্রামের ঘন্টি-সবই তাঁর কলমে মহাকাব্যিক মাত্রা পেয়েছে। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ইতিহাসের ভাঙাগড়ার মাঝেও শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হয়। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যের এক অক্ষয় ভাণ্ডার, যা আগামী শতকগুলোতেও আমাদের পথ দেখাবে। সমরেশ মজুমদার বেঁচে আছেন মাধবীলতার বিষণ্ণ চোখের দীপ্তিতে, অনিমেষের হার না মানা জেদে আর দীপাবলীর অদম্য সাহসে। কোনো সস্তা অমরত্বের তাঁর প্রয়োজন নেই, কারণ তিনি বাঙালির হৃদস্পন্দনের প্রতিটি অক্ষরে চিরস্থায়ী হয়ে আছেন।
আজকের এই গোধূলি বেলায় সমরেশ মজুমদারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কেবল এটুকু মনে হয়-তিনি কোনো একক ব্যক্তি নন, তিনি একটি চেতনার নাম। তাঁর লেখনী আগামীর অসংখ্য প্রজন্মকে শেখাবে কীভাবে অন্ধকারের বুক চিরে আলোর অন্বেষণ করতে হয়। কালান্তরের এই যাত্রাপথে তাঁর শব্দরাই হবে আমাদের পরম পাথেয়। আকাশভরা তারার মাঝে তিনি যেন সেই ধ্রুবতারা, যা কোনো এক দিশাহারা নাবিককে তীরের সন্ধান দেয়। সমরেশ মজুমদার কোনো শেষ নাম নয়, বরং এক অন্তহীন অক্ষরের আল্পনা, যা সময়ের পলিমাটিতে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। নদী যেমন বাঁক নেয় কিন্তু ফুরিয়ে যায় না, সমরেশ মজুমদারের সাহিত্যও তেমনি সময়ের বাঁক বদলে আরও নতুন নতুন অর্থ নিয়ে আমাদের সামনে ফিরে ফিরে আসবে। তিনি নেই, অথচ তাঁর শব্দরা আজও আমাদের কানে ফিসফিস করে বলে যায়- "লড়াইটা শেষ করো না, কারণ জীবনের অন্য নাম হলো পথচলা।"
এই যে পথচলা, এই যে অন্তহীন অন্বেষণ-এটাই সমরেশ মজুমদারের সাহিত্যের মূল সুর। হয়তো এখন থেকে অনেক বছর পরেও, ২০৫০ কিম্বা ২১০০ সালে, যখন পৃথিবীর চেহারা সম্পূর্ণ বদলে যাবে, তখনও কোনো এক পাঠক 'কালবেলা' হাতে নিয়ে চোখের জল ফেলবে। এখানেই একজন সাহিত্যিকের সার্থকতা। তিনি সময়কে জয় করেছেন তাঁর শব্দের জাদুতে। সমরেশ মজুমদার কেবল স্মৃতি নন, তিনি এক চিরন্তন বর্তমান। তাঁর সৃষ্টি আমাদের শিখিয়েছে যে মানুষের জয়গান গাওয়াই সাহিত্যের শেষ কথা। সেই জয়ের সুর আজও অনুরণিত হচ্ছে উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্রতীরে। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন-এক মহাকাব্যিক শব্দসাঁকো হয়ে আমাদের হৃদয়ের গভীরে।
তাঁর সেই কালজয়ী উক্তিটিই যেন আজকের শেষ কথা- "জীবন মানেই লড়াই, আর সেই লড়াইয়ে জেতার চেয়েও বড় হলো লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া।" সমরেশ মজুমদার সেই লড়াইয়েরই এক অবিনশ্বর সেনাপতি, যিনি শব্দের অস্ত্র দিয়ে মানুষের হৃদয়ে প্রেম ও দ্রোহের বীজ বুনে দিয়ে গেছেন। আজ থেকে বহু বছর পরেও যখন ইতিহাসের ধুলো জমবে এই সময়ের ওপর, তখন সেই ধুলো সরিয়ে সমরেশ মজুমদারের শব্দগুলোই ঝকঝক করে উঠবে হীরের কুচির মতো। কারণ তিনি কেবল কাগজের ওপর লেখেননি, তিনি লিখেছেন মানুষের অনুভূতির মর্মমূলে। আর সেই অনুভূতি কখনো ফুরিয়ে যায় না, তা কেবল রূপ বদলায়। সমরেশ মজুমদার সেই রূপান্তরেরই এক অনন্য কারিগর।
সমরেশ মজুমদারের সাহিত্য এক মায়াবী কুয়াশার মতো। যা আমাদের চারপাশকে ঘিরে রাখে, কখনো অস্পষ্ট করে দেয় রূঢ় বাস্তবকে, আবার কখনো সেই কুয়াশা কাটলে দেখা যায় এক অপূর্ব ভোরের সূর্য। সেই সূর্যের আলোয় আমরা খুঁজে পাই নিজেদের। সমরেশ মজুমদারের গল্পে আমরা আসলে নিজেদেরই গল্প শুনি। তাই তিনি কখনো পুরনো হন না, যেমন পুরনো হয় না প্রেম কিংবা বিকেলের পড়ন্ত রোদ। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন এক নিঃশব্দ কথোপকথন হয়ে, যা শেষ হয়েও শেষ হয় না।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।
১২৬ বার পড়া হয়েছে