কলাপাড়ায় কলেজে শিক্ষকের ওপর আরেক শিক্ষকের হামলা, গুরুতর আহত
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ ২:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক কলেজ শিক্ষকের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একই কলেজের অপর শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই কলাপাড়া থানা পুলিশের একটি দল কলেজে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় বলে জানিয়েছেন কলেজটির অধ্যক্ষ ড. ফাতেমা হেরেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের লাইব্রেরি কক্ষে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ইনকোর্স পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছিলেন শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় সাধারণ ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মো. বাদল মাতুব্বর সেখানে এসে তাকে হঠাৎ একটি প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমানের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার্থে বাম হাত দিয়ে বাধা দেন। এতে প্লাস্টিকের চেয়ার ভেঙে তার বাম হাতের কব্জির নিচের অংশ কেটে যায়। রক্তক্ষরণে তার পোশাক ভিজে যায়। পরে গণিত বিভাগের শিক্ষক মোজাম্মেল তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান।
কলাপাড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে আহত ওই শিক্ষককে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান তাকে ভর্তি করেন। তার বাম হাতের কব্জির নিচের অংশে গভীর ক্ষত হওয়ায় চার থেকে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
আহতের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই বাদল মাতুব্বর তাকে কলেজে আসতে নিষেধ করে আসছিলেন। তবে তিনি নিয়মিত কলেজে এসে ক্লাস নেওয়ায় এর আগেও তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
তবে শিক্ষক মো. বাদল মাতুব্বর তার বিরুদ্ধে ওঠা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাতেমা হেরেন বলেন, দুই শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষক লাউঞ্জে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে কি না, সেটিও তার জানা নেই। তবে বিকেলে পুলিশ কলেজে এসে ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কলেজে দুই শিক্ষকের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি তারা জেনেছেন। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১২১ বার পড়া হয়েছে