টিকটক তারকার প্রলোভনে কিশোরী পাচার ও নির্যাতন: ফরিদপুরে একজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ ৫:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে এক কিশোরীকে টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর মিথ্যা আশ্বাস দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি করে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার ঘটনায় আদল কাজী (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে দুটি পৃথক ধারায় মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (১০ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদল কাজী পলাতক ছিলেন। তিনি ফরিদপুর সদরের পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই আইনের ১১ ধারায় আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। তবে সাজা একত্রে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উন্নত জীবন ও টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভনে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার একটি পতিতালয়ে বিক্রি করা হয় এবং সেখানে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর, ২৭ জুলাই রাতে র্যাবের একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং আদল কাজীকে আটক করে। একই ঘটনায় র্যাব ক্যাম্পের ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় আদল কাজীর পাশাপাশি সুমন ওরফে রাসেল নামে আরেকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছিল।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আদল কাজী একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের সংগ্রহ করে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন। তবে অপর আসামি সুমনের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
১২০ বার পড়া হয়েছে