সর্বশেষ

সারাদেশ

কুয়াকাটায় শত কোটি টাকার খাস জমি অনিয়মে বন্দোবস্ত ও বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি জোরালো

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ ৩:০৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি অনিয়মের মাধ্যমে বন্দোবস্ত দেখিয়ে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে অকৃষি ও গুরুত্বপূর্ণ খাস জমি কাগজপত্রে বন্দোবস্ত দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দুস্থ ও ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ জমিও জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিতর্কিত এসব বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ থেকে মামলা (নং-৭৩/১০) দায়ের করে তা বাতিল করা হলেও এখনো জমি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ আইনি জটিলতায় জমিগুলো এখনও একটি চক্রের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৭৪–৭৫ সালে দেওয়া কিছু বন্দোবস্ত ২০০৯ সালে রেজিস্ট্রি করা হলেও তা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। বর্তমানে ওই জমিগুলো এক তৃতীয়াংশ চুক্তিতে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মিউটেশন ও কবুলিয়ত রেজিস্ট্রির আগেই অনেক জমির কাগজপত্র সম্পন্ন করা হয়েছে, যেখানে ভূমি অফিসের কিছু কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে এসব জমিতে বসবাসরত বহু পরিবার এখন উচ্ছেদের আতঙ্কে রয়েছে।

কুয়াকাটা পৌরসভার ৯, ৮ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ একাধিক এলাকায় একই ধরনের অনিয়ম ও দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জমিতে বসবাস করছেন এবং হঠাৎ করে জমি বিক্রির চেষ্টা তাদের উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লতাচাপলী মৌজায় প্রায় ৪ একর ৭৭ শতক খাস জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগও উঠেছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। সেখানে ভুয়া কেস ও মিসকেস তৈরি করে জমি নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও জানা গেছে। একটি ঘটনায় বন্দোবস্ত গ্রহীতার বয়স মাত্র ৮ বছর দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কুয়াকাটার পর্যটন খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন