কচাকাটা থানাকে উপজেলায় রূপান্তরের দাবি জোরালো
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত করার দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
গত ১০ মে রবিবার মন্ত্রীর সরকারি সফরে কুড়িগ্রাম আগমনকালে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সফরকালে তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং পরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বিকেলে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, কচাকাটা একটি প্রাচীন, জনবহুল ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বর্তমানে এটি প্রশাসনিকভাবে থানা হিসেবে পরিচালিত হলেও এর জনসংখ্যা, আয়তন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সেবা চাহিদা একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলার উপযোগী।
এলাকাবাসীর মতে, দুধকুমর, গঙ্গাধার, সংকোষ ও ব্রহ্মপুত্র নদীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা দ্বারা বেষ্টিত এই অঞ্চলটি জেলা সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। এছাড়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ও নাগেশ্বরী উপজেলা হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়।
থানার আওতায় থাকা ৫টি ইউনিয়ন ও বিভিন্ন আংশিক এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। এখানে রয়েছে ৪টি কলেজ, ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাদ্রাসা এবং ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তবে উপজেলা না থাকায় প্রশাসনিক ও সেবামূলক কার্যক্রমে জনগণকে দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থার কথাও তুলে ধরা হয় স্মারকলিপিতে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগীদের ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী কিংবা কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, ফলে অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
এলাকাবাসীর দাবি, কচাকাটা উপজেলায় উন্নীত হলে প্রশাসনিক সেবা সহজ হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সীমান্তবর্তী বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও কাজে লাগানো যাবে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী চঞ্চল জানান, ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, দীর্ঘদিনের জনদাবির ভিত্তিতে কচাকাটাকে দ্রুত উপজেলায় রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। এতে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে