শিলাইদহ কুঠিবাড়ির ঐতিহ্যবাহী মেলা এবার বন্ধ, ক্ষোভ ও হতাশা ব্যবসায়ীদের মধ্যে
বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ৪:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা এবার আর বসেনি। ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব থাকলেও মেলা না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, “স্বাধীনতার পর থেকেই কুঠিবাড়ি ঘিরে মেলা দেখে আসছি। মেলার আগে থেকেই আত্মীয়-স্বজনসহ মানুষের ভিড় থাকত। এবার কোনো মেলা না হওয়ায় দোকানদাররা সবাই চলে যাচ্ছে।”
মাদারীপুর থেকে প্রায় দুই দশক ধরে এই মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, ধারদেনা করে আসি। এবার অনুমতি না থাকায় সবাই ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। সামনে আর আসতে ইচ্ছে করছে না।”
জানা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এবারও শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত বছর একই সময়ে কুঠিবাড়ির আমবাগানে গ্রামীণ মেলা বসেছিল।
তবে এবার মেলার অনুমতি না থাকায় আগেভাগেই আসা শতাধিক ব্যবসায়ীকে দোকান গুটিয়ে চলে যেতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশে হঠাৎ করেই দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, ফলে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শরিয়তপুর থেকে আসা খেলনা ব্যবসায়ী মীর বাবুল বলেন, “১৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। এবার দোকান বসানোর পরই ভেঙে দিতে বলা হয়। বৃষ্টির মধ্যেই সব গুটিয়ে চলে যেতে হয়েছে। প্রতিজনেরই পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে।”
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই মেলা দেখে আসছি। এবার কেন হলো না, কেউ স্পষ্ট করে বলছে না। ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে এই মেলা টিকিয়ে রাখা জরুরি।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জানান, কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন থাকলেও প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে মেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এবার মেলা আয়োজন করা হয়নি।
১৩১ বার পড়া হয়েছে