সর্বশেষ

সারাদেশ

অকেজো হচ্ছে ময়মনসিংহের ট্রাফিক সিগনাল লাইটগুলো, চলছে এনালগ নিয়ন্ত্রণ

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 
আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 

বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ২:১৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন সড়কে স্থাপিত ট্রাফিক সিগনাল লাইটগুলো এখন বিলুপ্তির পথে।

যানজট নিরসন ও যানবাহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এসব সিগনাল লাইট স্থাপন করা হলেও বর্তমানে এগুলো প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে আছে। নব্বইয়ের দশকে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্থাপিত এই সিস্টেম কার্যত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায়, অর্থাৎ এনালগ পদ্ধতিতে।

১৯৯২ সালে ময়মনসিংহ শহরের ব্রীজের মোড়, গাঙ্গিনারপাড়, তাজমহল, নতুনবাজার, চরপাড়া ও টাউন হল মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক সিগনাল লাইট স্থাপন করা হয়। তবে স্থাপনের পর থেকেই এগুলোর কার্যকর ব্যবহার হয়নি বলে জানা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নজরদারির অভাবে অনেক স্থানের খুঁটি, বৈদ্যুতিক তার ও লাইট চুরি হয়ে গেছে। ফলে এসব আধুনিক অবকাঠামো এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন মোড়ে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে সিগনাল লাইটের কাঠামো। পাখিরা এসব স্থাপনাকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করলেও নগরবাসীর জন্য তা কোনো উপকারে আসছে না। বরং যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

গাঙ্গিনারপাড় এলাকার পথচারী সাবিনা ইয়াসমিন রুবি বলেন, “মাথার ওপর ট্রাফিক লাইট দীর্ঘদিন ধরে দেখছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত এগুলো জ্বলতে দেখিনি। যদি এগুলো চালু না-ই করা হয়, তাহলে স্থাপন করার অর্থ কী ছিল?”

তাজমহল এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত পাল বলেন, “শহরে জনসংখ্যা ও যানবাহন দুটোই বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিগনাল লাইট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এগুলো সচল থাকলে যানজট অনেকটাই কমে যেত।”

নতুনবাজার এলাকার পথচারী মাহমুদুল হাসান রতন বলেন, “কথা ছিল লাল বাতি জ্বললে গাড়ি থামবে, হলুদে অপেক্ষা করবে, আর সবুজে চলবে। কিন্তু এখন আধুনিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে রঙ করে রাস্তায় চালানো হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন লাইসেন্স ও রং করার নামে টাকা নিচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। আমরা এই যানজট থেকে মুক্তি চাই।”

চরপাড়া মোড় শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, যেখানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থান রয়েছে। প্রতিদিন শত শত অ্যাম্বুলেন্স এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে, কিন্তু যানজটের কারণে রোগীদের নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয় চালকদের। এখানেও স্থাপিত সিগনাল লাইট এখন অচল।

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, “যেখানে ডিজিটাল যুগে উন্নত ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার কথা, সেখানে আমরা পুরোনো এনালগ ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি। ট্রাফিক সিগনাল লাইট ছিল আধুনিকতার প্রতীক, কিন্তু আজ তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। অনেক জায়গায় এসব রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি হয়ে গেছে। প্রশাসনের নীরবতায় এসব ঘটছে। এর জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।”

অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রোকুনুজ্জামান রোকন জানান, ১৯৯২ সালে স্থাপিত এসব সিগনাল লাইট তখনকার সময়ে মানুষের অজ্ঞতার কারণে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “বন্ধ থাকতে থাকতে এগুলো এখন অচল হয়ে গেছে। এগুলো সচল করতে হলে আগে নাগরিক ও চালকদের সচেতন করতে হবে এবং কাউন্সেলিং প্রয়োজন।”

এদিকে শহরের যানজট নিরসনে বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের ১২০ জন সদস্য কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন