নড়াইলে একসঙ্গে ৭ সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি মা, জন্মের পরই সব শিশুর মৃত্যু
বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ৩:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নড়াইল সদর উপজেলায় এক বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি মা। তিনি একসঙ্গে ৭টি সন্তান প্রসব করলেও জন্মের পর কোনো শিশুই বাঁচেনি।
জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের মহসিন মোল্যার স্ত্রী সালমা বেগম গত কয়েক মাস আগে গর্ভধারণ করেন। শুরুতে চিকিৎসকেরা আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় তার গর্ভে ৬টি সন্তান রয়েছে বলে ধারণা দেন। তবে বাস্তবে তিনি স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে ৭টি সন্তান জন্ম দেন—এর মধ্যে ৩টি কন্যা ও ৪টি পুত্র সন্তান।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শিশুদের জন্ম হওয়ায় তারা কেউই বেঁচে থাকতে পারেনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার হঠাৎ সালমা বেগমের প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে দ্রুত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়, যা কিছুক্ষণ পরই মারা যায়। পরবর্তীতে একই রাতে আরও একটি শিশুর জন্ম হয় এবং সেটিও মারা যায়। পরে দ্বিতীয় শিশুটিকে যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরের দিন বুধবার রাতের মধ্যে আরও পাঁচটি শিশুর জন্ম হয়, কিন্তু জন্মের অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলিও মৃত্যুবরণ করে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে কালুখালী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে ছয়টি শিশুকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। অপর একটি শিশুকে যশোরে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সালমা বেগম বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মহসিন মোল্যার পিতা লতিফ মোল্যা বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর পরিবারে নতুন সদস্য আসার আশায় তারা আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর সব আশা ভেঙে গেছে। তিনি আরও বলেন, “এতগুলো শিশুকে একসঙ্গে দাফন করা যে কতটা কষ্টের, তা ভাষায় বোঝানো যাবে না।”
এদিকে স্থানীয় শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, একসঙ্গে এত শিশুর জন্মের ঘটনা এলাকায় বিরল। শিশুদের অকাল জন্ম হওয়ায় এবং শারীরিকভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় তারা বাঁচতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় গভীর শোক ও শূন্যতার পরিবেশ বিরাজ করছে।
১২৮ বার পড়া হয়েছে