মদনে শিশু ধর্ষণ মামলায় মুখ খোলার পর চিকিৎসককে হত্যার হুমকি
শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ১:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের আলোচিত ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডা. সায়মা আক্তার প্রতি বৃহস্পতিবার মদন উপজেলার ‘স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ নিয়মিত রোগী দেখেন। গত ৩০ এপ্রিল এক মা তার ১১ বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য সেখানে নিয়ে আসেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন লক্ষণ দেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ডা. সায়মা জানতে পারেন, সে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
পরে শিশুটির সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসক জানতে পারেন, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার এক হুজুর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। এর ফলেই শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন ডা. সায়মা আক্তার।
এরপর থেকেই তাকে বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি থেকে অশ্লীল মন্তব্য, গণধর্ষণ এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
ডা. সায়মা আক্তার বলেন, “আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে সত্য তথ্য তুলে ধরেছি। এরপর থেকেই আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর সাহেবের সঙ্গে কথা বললে তিনি আমাকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে আমি থানায় জিডি করেছি।”
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডা. সায়মা আক্তার বৃহস্পতিবার সকালে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৮৫ বার পড়া হয়েছে