সিলেটের পাথর কোয়ারি ইজারা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, জাফলং বাদ থাকায় হতাশা
বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ১:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারি পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার সীমিত আকারে ইজারা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে পরিবেশগত সংরক্ষণের কারণে জাফলং এলাকা এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে এবং বিদ্যমান খনিজ ও পরিবেশ বিষয়ক আইন-বিধি মেনে যেসব এলাকা পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সেসব স্থানে সীমিত আকারে পাথর উত্তোলনের জন্য কোয়ারি ইজারা দেওয়া হবে।
ইতোমধ্যে যেসব এলাকা ‘ইকোলজিকালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ECA)’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণভাবে এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে। ফলে এসব সংরক্ষিত এলাকায় কোনো ধরনের কোয়ারি কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে এবং সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার জেলা প্রশাসকদের সদস্য করে একটি সার্ভে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে ইজারাযোগ্য কোয়ারিগুলো চিহ্নিত করবে এবং পরিবেশগত ক্ষতি হবে না—এমন কোয়ারির তালিকা সরকারের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ইজারা কার্যক্রম শুরু হবে।
জাফলংকে এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এটি পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধিমালার কারণে এখানে কোয়ারি কার্যক্রম নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা, পর্যটন শিল্পের স্বার্থ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাফলংয়ে পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনেক শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। নতুন সিদ্ধান্তে জাফলং বাদ পড়ায় তাদের হতাশা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, সার্ভে কমিটির অনুমোদন পাওয়া এলাকাগুলোতে সীমিত আকারে পাথর উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি হলেও তা সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থানের সংকট পুরোপুরি দূর করতে পারবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
১৬১ বার পড়া হয়েছে