সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে চান না বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ১:২১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় আনার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। উন্নত নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তারা এ সিদ্ধান্তে অটল বলে জানিয়েছেন।
বাসিন্দাদের দাবি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বর্তমানে যে মানের সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিদ্যমান, তা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অন্যান্য এলাকার তুলনায় উন্নত। তাদের আশঙ্কা, সিটি করপোরেশনের অধীনে গেলে এই সেবার মান কমে যেতে পারে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার ঝুঁকি তৈরি হবে।
জানা গেছে, বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিজস্ব অর্থায়নে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিরাপত্তা, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে আসছে। ফলে বাসিন্দারা একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাসে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
এলাকার বাসিন্দাদের মতে, সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, হকারদের বিস্তার, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত ঝুঁকি বাড়তে পারে। বর্তমানে এলাকাটির প্রবেশপথে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি নজরদারি থাকায় অপরাধ প্রবেশের সুযোগ কম।
এ প্রেক্ষিতে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এমপি ও মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা গত ৬ মে ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকরা সম্মিলিতভাবে সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে অনিচ্ছুক।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার উন্নয়ন কাজ—যেমন সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, ড্রেন পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ—সবই সোসাইটির নিজস্ব তহবিল থেকে পরিচালিত হয়। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কোনো আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করা হয় না।
এছাড়া, এলাকাটির উন্নয়ন কার্যক্রম ২০৩৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে একই দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সম্মিলিত আবেদনও করেছেন বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, ডিএনসিসি কর্তৃক হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধের চূড়ান্ত নোটিশকে কেন্দ্র করে বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা এটিকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ হিসেবে দেখছেন এবং এ ধরনের কর আরোপ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বর্তমানে যে শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বিদ্যমান, তা বজায় রাখতে হলে সিটি করপোরেশনের বাইরে থাকা প্রয়োজন। তাই প্রকল্পটিকে ডিএনসিসির আওতার বাইরে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে