বাঘায় পারিবারিক বিরোধে বসতঘর ভাঙচুর, টিনশেড গোডাউনে মানবেতর জীবন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ১:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্ত্রী, চার সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে একটি টিনশেড গোডাউনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রাজন আলী (৩৬) নামে এক ব্যক্তি।
বুধবার (৬ মে) সরেজমিনে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে দেখা যায়, জানালাবিহীন ও সাটারযুক্ত একটি গোডাউনের ভেতরেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। একই ঘরের মধ্যেই রান্না, ঘুম ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। সেখানে নেই টয়লেট বা নিরাপদ পানির সুবিধা।
ভুক্তভোগী রাজন আলী অভিযোগ করেন, পৈতৃক সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বড় ভাই সোহেল রানার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। তার ভাষায়, “দলবল নিয়ে এসে আমার বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে ব্যবসার গোডাউনে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, দিয়াড়পাড়া মৌজার ১১৯ নম্বর জেএলভুক্ত জমিতে তার বাবার নামে ২২.৫০ শতাংশ জমি রয়েছে (আরএস দাগ নম্বর-৫২৪২)। বাবার মৃত্যুর পর ভাই-বোনদের মধ্যে মৌখিকভাবে জমি ভাগ হলেও তিনি তার অংশে বসবাস করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জমিতে নির্মিত ঘর জোরপূর্বক ভেঙে দখল করে নেয় বড় ভাই। গত ২৩ এপ্রিল ওই জমিতে মাটি ভরাট শুরু করলে বাধা দিতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
রাজনের স্ত্রী সুরমা বেগম বলেন, “ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। গোডাউনে কোনো জানালা নেই, বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলেও যেতে পারছে না। আমরা আমাদের ঘরে ফিরে যেতে চাই।”
তাদের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে রাইশা আক্তার রাত্রি জানায়, “এখানে পড়াশোনা করা খুব কঠিন। গরমে রাতে ঘুমানো যায় না।”
রাজনের মা রেহেনা বেওয়া বলেন, “ঘর ভাঙার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। ফিরে এসে দেখি সব ভেঙে গেছে। এখন ছেলের সঙ্গে গোডাউনেই থাকতে হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই পরিবারটি গোডাউনে বসবাস করছে।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করা হয়েছে। জিডির ভিত্তিতে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারটির নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার জানান, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উভয় পক্ষকে ডেকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত সোহেল রানা দাবি করেন, জমিটি অনেক আগেই তার ছোট ভাইয়ের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। “রাজন ওই জমিতে থাকার চেষ্টা করছিল, তবে প্রকৃত মালিক তাকে থাকতে দেয়নি,” বলেন তিনি।
এদিকে পারিবারিক বিরোধের কারণে একটি পরিবার চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান ও পরিবারটির পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
১২০ বার পড়া হয়েছে