সৌদি-ইউএই সম্পর্কের টানাপোড়েন: ঘনিষ্ঠতা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তরণ
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ৩:২১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ব তেলবাজারে যেমন আলোড়ন তুলেছে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দুই মিত্র সৌদি আরব ও ইউএই’র সম্পর্ক নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব এখন ক্রমেই প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ঐতিহাসিকভাবে ওপেকের নীতিনির্ধারণে সৌদি আরব ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ। উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা বৈশ্বিক তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব রাখত। সেই কাঠামো থেকে আমিরাতের সরে দাঁড়ানোকে অনেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের অস্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই দূরত্ব হঠাৎ তৈরি হয়নি। প্রায় এক দশক আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আমিরাতের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে একই আদর্শিক শিবিরের অংশ হিসেবে দেখা হতো। আরব বসন্ত-পরবর্তী অস্থিরতা, ইয়েমেন যুদ্ধ, কাতার সংকট এবং ইরানবিরোধী অবস্থানে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐক্যে ফাটল ধরতে শুরু করে। বর্তমানে দুই দেশই ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক নীতি অনুসরণ করছে, বিশেষ করে ইয়েমেন, লিবিয়া এবং হর্ন অব আফ্রিকার মতো অঞ্চলে প্রক্সি প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ক্রমশ ভিন্ন হয়ে উঠছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। দুবাই দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকলেও সৌদি আরব ভিশন ২০৩০-এর মাধ্যমে পর্যটন, বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন কেন্দ্র গড়ে তুলছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও উভয় দেশের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থ রয়ে গেছে। তবে ভবিষ্যতে তারা সহযোগিতার পথে ফিরবে নাকি প্রতিযোগিতাকে আরও গভীর করবে—তা নির্ভর করবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক কৌশলের ওপর।
১২০ বার পড়া হয়েছে