উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সিলেটে বন্যার আশঙ্কা, মনু নদী বিপৎসীমার ওপরে
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট বিভাগে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, যা আসন্ন বন্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, চার জেলার মধ্যে মৌলভীবাজারে বন্যার প্রভাব ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, মনু নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১.৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জের খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৭.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জি অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সিলেটের নদীগুলোতে।
এদিকে পাউবোর তথ্যে বলা হয়েছে, সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন ও সারি-গোয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। কানাইঘাট ও সিলেট পয়েন্টেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিনে বিপৎসীমা অতিক্রম করার শঙ্কা রয়েছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও ঢলের কারণে পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন থাকতে পারে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাউবো সতর্ক করে বলেছে, কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এতে বোরো ধান কাটার পরবর্তী সময়ে গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে