সিলেটে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক, সাংবাদিক মহলে আলোচনা
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট মহানগরীতে সম্প্রতি পুলিশ কমিশনারের বিভিন্ন নির্দেশনা, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে আইনি বৈধতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের, যা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
তারা আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট Code of Criminal Procedure (CrPC)-এর ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিসরে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারেন। এছাড়া নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আদালত সংবাদ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের সরাসরি মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ বা নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতার উল্লেখ নেই।
এ অবস্থায় সিলেট মহানগরীতে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ও ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ ক্ষমতার সীমার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এদিকে সিলেট জেলা আদালতের এক সিনিয়র আইনজীবী বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে পুলিশের সরাসরি নির্দেশ বা হস্তক্ষেপের সুযোগ খুবই সীমিত। তাঁর মতে, আইন অনুযায়ী সংবাদপত্র বা সংবাদকর্মীদের কাজে পুলিশ সরাসরি কোনো নির্দেশনা দিতে পারে না এবং গণমাধ্যমের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপের এখতিয়ারও পুলিশের নেই।
তবে তদন্তের প্রয়োজনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বা সংবাদ প্রকাশে নির্দেশনার ঘটনাগুলো সমালোচিত হয় এবং তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত।
সংক্ষেপে তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, সাংবাদিকতা করা নয়। সংবাদপত্র তার নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিমালা ও পেশাগত নৈতিকতার ভিত্তিতে কাজ করে, যেখানে পুলিশের নির্দেশনামূলক ভূমিকা নেই।
উল্লেখ্য, ২৯ এপ্রিল বুধবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কমিশনার রুহুল কুদ্দুস চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে সিলেটের সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ, আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
২০৪ বার পড়া হয়েছে