সিলেটে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ফের বন্যার শঙ্কা
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট অঞ্চলে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও বড় ধরনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পূর্বাভাসে এই সম্ভাবনার কথা জানানো হলে নগরবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা কয়েক বছর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়া প্রায় ২০ লাখ মানুষ আবারও ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারানোর আশঙ্কায় দিন গুনছেন।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত রোববার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ শাহ সজিব আহমেদ জানান, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুরমা, কুশিয়ারা, সারী ও গোয়াইনসহ সিলেটের সবকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢল ধেয়ে আসছে। ইতোমধ্যে ভারতের গুয়াহাটি ও শিলচর অঞ্চলে বন্যা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সিলেট নগরকে স্থায়ীভাবে বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে প্রায় ১০ বছর পর ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ‘সিলেট নগরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প’ শীর্ষক এই উদ্যোগটি বিদেশি সহায়তা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
আগামী শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট সফরকালে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর দুই তীরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, চাঁদনিঘাট এলাকায় আধুনিক স্লুইসগেট স্থাপন এবং নদীর পাড় ঘেঁষে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার দিনভর ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে সিলেট নগরজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। গত বছরের মে মাসের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি মনে করে ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমেও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর পানি বাড়তে থাকায় কৃষকরা সোনালি ফসল হারানোর ভয়ে আধাপাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলছেন।
পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস জানিয়েছেন, “৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। উজানের ঢল নামলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি।”
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের মধ্যে সিলেটবাসী এখন একদিকে বন্যার আশঙ্কায় শঙ্কিত, অন্যদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের আশায় প্রহর গুনছেন।
১২৫ বার পড়া হয়েছে