সর্বশেষ

মতামত

এটা আবার কীসের আলামত

শিপন হালদার
শিপন হালদার

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পাঁচ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পতন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অভূতপূর্ব সফলতা। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের মেয়াদ শেষ। ভোটের মাধ্যমে বিএনপি এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। এর মাঝে ডিপ স্টেট এর ভূমিকা, 'মব সন্ত্রাস', শিক্ষকদের হেনস্তা, সীমাহীন দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য-ওপেন সিক্রেট বিষয় হিসেবে আলোচনার শীর্ষ ছিল।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সুপ্ত আর গুপ্ত রাজনীতির মাঠে সক্রিয় বলে মনে হচ্ছে। দিনকে দিন রাজনীতির মাঠ গরম করার কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট। জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়েও সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে এনসিপি। রাজধানীর মাঠে আবার ফিরে আসছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। সবমিলিয়ে নাগরিক জীবনে অনিশ্চয়তা, আশঙ্কা ঘিরে ধরছে যেন! এমনিতে জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, নিত্যপণ্যের চড়া দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের।

এমন এক বাস্তবতায় আলোচনায় ফের ফিরছে 'জঙ্গী' তৎপরতা। জনমনে তাই ভর করছে নতুন শঙ্কা। সচেতন মানুষের তাই জিজ্ঞাসা, এটা আবার কীসের আলামত? সত্যি কী জঙ্গীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। আবারও অস্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে হবে আমাদের!

বিষয়টি প্রথম কথা বলেছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৩ নভেম্বর ২০২৫, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করে দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে। মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, বাংলাদেশের শক্ররা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। যতই সময় যাচ্ছে, ততই বাংলাদেশে পুরোপুরি একটা নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। তাঁর এই বক্তব্যে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র যে থেমে নেই-তা তিনি পরিষ্কার করে বলেছিলেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে নৈরাজ্য নিয়ে মাঠের রাজনীতিতে বাহাস চলছে। কিন্তু এই বাহাস এখন নতুন মোড় নিয়েছে। নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে। এক অশনি সংকেত দিচ্ছে জনগণকে, প্রিয় মানচিত্রকে।

সবশেষ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হতে পারে এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিশেষ সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যার থেকে বাদ পড়েনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোও। তবে, বিষয়টির সঙ্গে একমত নয় র‌্যাব। বিশেষ এই বাহিনীর মতে, এমন কোনও হুমকি নেই এবং অপরাধীরা হামলা করার সাহস করবে না। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কাওরান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, এরকম কোনও আশঙ্কা বা থ্রেট এই মুহূর্তে আমরা দেখছি না। আমরা প্রত্যাশা করছি, অপরাধীরা এই ধরনের সাহস অন্তত করবে না। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আমাদের ডিপ্লোমেন্ট রয়েছে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যেকোনো থ্রেট ও ঝুঁকি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এই বিষয়টি আমরা জেনেছি। আমরা আমাদের যে সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে, সরকারি অফিস এবং পাবলিক বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে স্থাপনাগুলো আছে সবগুলোর নিরাপত্তায় আমাদের টহল, গোয়েন্দা টিম ও গোয়েন্দা নজরদারি চলমান আছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিয়োজিত রয়েছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোয় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তায় সরকার ১০টি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, দেশে বর্তমানে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অতীতে ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এই শব্দ ব্যবহার করা হতো। তিনি আরো বলেন, ওই শব্দটিকেই (জঙ্গিবাদ) আমরা এখন আর রিকগনাইজ করি না। আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ সব দেশেই থাকে, কিছু রেডিক্যাল বা ফান্ডামেন্টাল রাজনৈতিক শক্তি থাকে, এগুলো স্বাভাবিক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় দেশের নিরাপত্তা ও জঙ্গী তৎপরতা নিয়ে তেমন কোন উদ্বেগ দেখা যায়নি। সহজ করে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি জানালেও জঙ্গী জঙ্গি তৎপরতার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে, দেশে জঙ্গি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আরো জানান, এই তৎপরতা ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনার চেষ্টা করবে সরকার। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘দেশে জঙ্গি নেই’- এ বক্তব্যও সঠিক ছিল না বলেও দাবি করেছেন ডা. জাহেদ।

এমন বাস্তবতায় জনমনে প্রশ্ন তৈরির সুযোগ হয়েছে। সরকার কী তাহলে প্রকাশ্যে জঙ্গী তৎপরতার কথা স্বীকার করছে না? পুলিশ সদর দপ্তর দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার আশঙ্কার কথা জানালেও স্বীকার করেনি র‌্যাব। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান দুই রকম কথা বলেছেন। স্পর্শকাতর এমন একটি বিষয় নিয়ে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে স্পষ্ট সমন্বয়হীনতাও দেখা গেছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বরত ব্যক্তিদের গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার আগে সমন্বয়টা জরুরি। ঠিক করতে কে কোন কথা বলবেন? সবাইকে সব কথা কেন বলতে হবে? উপদেষ্টা বা মন্ত্রীদের কথা বলায় লাগাম না টানলে অপতথ্য বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়বে। জনমনে সংশয়, সন্দেহ তৈরি হবে। সাধারণ মানুষ অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। নিরাপত্তাহীনতা ভুগবে। যা সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করবে। যা নিশ্চয়ই বর্তমান সরকার চাইবে না।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন