সর্বশেষ

সারাদেশ

শুনানি থেকে সরে আসার পরই টেন্ডার সূচি পরিবর্তন, আলোচনায় বিআইডব্লিউটিএ

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেটের গোয়াইনঘাট ও সালুটিকর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাট ইজারা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মোড় নিয়েছে।

আদালতের শুনানি থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সরে আসার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সংস্থাটি টেন্ডারের সময়সূচি পরিবর্তন করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে পুরো প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় সোমবার থেকেই বিআইডব্লিউটিএর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন স্মারকে ইজারা কার্যক্রমের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালসহ বিভিন্ন নদীবন্দরের পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার টেন্ডার জমা ও উন্মুক্তকরণের তারিখ মে ও জুন মাসে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, গণমাধ্যমে সমালোচনার মুখে হঠাৎ সূচি পরিবর্তনের পেছনে প্রকৃত কারণ কী।

সিলেট আদালত সূত্রে জানা যায়, ২৬ এপ্রিলের শুনানিতে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বাদীপক্ষের অনুকূলে বিদ্যমান স্থিতাবস্থা বহাল থাকে। এতে বর্তমান ইজারাদার সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে আরও কিছু সময় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিলেট আদালতের আইনজীবীরা জানান, গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পরই টেন্ডারের তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের মতে, এতে বোঝা যাচ্ছে যে অভ্যন্তরীণভাবে কোনো চাপ বা পুনর্বিবেচনা কাজ করেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, স্বচ্ছতার স্বার্থে যদি টেন্ডার সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়ে থাকে, তবে বিআইডব্লিউটিএকে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় এটি চলমান বিতর্ক আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে।

গোয়াইনঘাট ও সালুটিকরের নৌঘাটগুলো বালু ও পাথর পরিবহনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এসব ঘাট থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়। ফলে ইজারা প্রক্রিয়ায় কোনো বিলম্ব বা বিতর্ক সরাসরি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে টেন্ডার সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক মহলে এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল ‘গোয়াইনঘাট-সালুটিকর নৌ-পথ ইজারা বিরোধে নতুন মোড়, শুনানি স্থগিত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সিলেটের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর প্রভাবে বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টেন্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শুনানি থেকে সরে আসেন। সেই সংবাদ প্রকাশের পর টেন্ডার পিছিয়ে দিয়ে সংস্থাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

১৪০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন