লোহাগড়ায় স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক, স্বামী আটক
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ ৪:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আটক স্বামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া এলাকায় গৃহবধূ সুমনা ফেরদৌসীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৫ জুন) রাতে দিঘলিয়া এলাকা থেকে লিমন মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ জানায়, লিমন স্থানীয়ভাবে একটি চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুমনা গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হলে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সুরতহাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশের সন্দেহ হলে লিমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
১২২ বার পড়া হয়েছে